অভিষেকের মায়ের প্রশ্ন থেকেই কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্ম, বড়ঞার সভায় নেপথ্য কাহিনী শোনালেন মমতা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার এখন রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলি। এর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও চর্চিত প্রকল্প হলো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। বুধবার বড়ঞার জনসভায় দলীয় প্রার্থী প্রতিমা রজকের সমর্থনে প্রচার করতে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের শুরুর নেপথ্যে থাকা এক আবেগঘন কাহিনী পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থকষ্ট মেটানোর তাগিদ থেকেই এই অভিনব প্রকল্পের ভাবনা তাঁর মাথায় এসেছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ২০১৬ সালের নোটবাতিল পর্বের স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি জানান, সেই সময় কেন্দ্রের আকস্মিক সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ যখন চরম বিপাকে পড়েছিলেন, তখন অভিষেকের মা তাঁর কাছে এসে ৫০০ টাকা চেয়েছিলেন। বাজার করার মতো নগদ টাকা না থাকায় তৈরি হওয়া সেই অসহায় পরিস্থিতি তৃণমূল নেত্রীকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। তিনি উপলব্ধি করেন, বাংলার মা-বোনেদের ছোট ছোট সঞ্চয়ই বিপদের দিনে তাঁদের প্রধান ভরসা। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, যা বর্তমানে রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার হাতে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি উদাহরণের মাধ্যমে প্রকল্পের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, বেঙ্গালুরু প্রবাসী এক তরুণীর জমানো টাকার গল্পও তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় বাংলার মহিলারা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন। মমতার কথায়, এটি কেবল একটি সরকারি অনুদান নয়, বরং মা-বোনেদের সম্মান ও স্বনির্ভরতার প্রতীক। নির্বাচনী আবহে এই প্রকল্পের সাফল্য ও এর পেছনের মানবিক দিকটি তুলে ধরে তিনি রাজ্যের নারীশক্তির সমর্থন আরও মজবুত করতে চাইছেন। সংবাদ বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন ও আবেগের এই মিশেল আসন্ন নির্বাচনে শাসকদলের জন্য বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।