ভোটের বাজারে তুঙ্গে ভুসোকালির চাহিদা বড়বাজারে টান পড়ল জোগানে

নির্বাচনী আবহে সরগরম বড়বাজারের রঙের গলি। প্রচারের দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে দলীয় পতাকার কাজ—সবক্ষেত্রেই এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে ভুসোকালি। সারা বছর অনাদরে থাকলেও ভোট আসতেই এই কালির কদর বেড়েছে বহুগুণ। বিশেষ করে দেওয়ালের বর্ডার এবং নামের পাশে কালো দাগ টানতে ভুসোকালির বিকল্প নেই। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় অনেক পাইকারি বিক্রেতা গ্রাহকদের খালি হাতে ফেরাচ্ছেন কিংবা সামান্য পরিমাণ কালি দিয়ে বিদায় করছেন।
কলকারখানার চিমনি বা প্রদীপের ধোঁয়ার ঝুল সংগ্রহ করে তৈরি হয় এই মিহি কার্বন ধুলো। এর সঙ্গে সাবুর লেই বা অ্যারারুট মিশিয়ে উজ্জ্বলতা বাড়ানো হয়, যা দেওয়ালে লাগালে দারুণ চকচকে দেখায়। বড়বাজারের ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, শুধু দেওয়াল লিখন নয়, প্রতিমা তৈরির কাজেও মৃৎশিল্পীরা এই কালি ব্যবহার করেন। বর্তমানে রায়গঞ্জ, আমতা বা পুরুলিয়ার মতো দূরদূরান্তের খুচরো ব্যবসায়ীরা বড়বাজারে এসে ভিড় জমাচ্ছেন এই বিশেষ কালির সন্ধানে।
ব্যবসায়ীদের মতে, ভোটের আগে ভুসোকালি এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, রাজনৈতিক জয়-পরাজয়ের পর একে অপরকে কালো রং মাখানোর রেওয়াজ পালনেও হয়তো কর্মীরা আগেভাগে স্টক মজুত করছেন। সব মিলিয়ে ভোটের লড়াইয়ে অন্য সব রংকে ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মিশমিশে কালো এই ভুসোকালি।