ভবানীপুরে শুভেন্দুর মনোনয়নে হাজির অমিত শাহ, পাল্টা শক্তি প্রদর্শনের পথে মমতা

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। আজ ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই বিশেষ মুহূর্তকে ঐতিহাসিক ‘শক্তি প্রদর্শনের’ মঞ্চে রূপ দিতে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকছেন। শাহের উপস্থিতিতে একটি বর্ণাঢ্য রোড-শোর পরিকল্পনা করেছে গেরুয়া শিবির, যা বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে। বুধবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যা এই লড়াইকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর এই হাই-প্রোফাইল মনোনয়নের ঠিক ছয় দিন পর, অর্থাৎ ৮ এপ্রিল পাল্টা ময়দানে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, সেদিন নিজের কালীঘাটের বাসভবন থেকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং আটজন কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে এক বিশাল মিছিল করে মনোনয়ন জমা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। গত নির্বাচনে নন্দীগ্রামে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হলেও ভবানীপুর উপনির্বাচনে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এবার নিজের খাসতালুকে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দুর সরাসরি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত তৃণমূল নেত্রী।
ভবানীপুরের এই লড়াইকে বিজেপি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা অমিত শাহের সশরীরে উপস্থিতি থেকেই স্পষ্ট। এর আগে ৩০ মার্চ নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর মনোনয়নের সময় ধর্মেন্দ্র প্রধান ও দিলীপ ঘোষ উপস্থিত থাকলেও, তিলোত্তমার এই লড়াইয়ে স্বয়ং চাণক্যকে ময়দানে নামিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে স্থানীয় মানুষের আবেগকে সঙ্গী করেই জয়ের ধারা বজায় রাখতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরের অলিতে-গলিতে এখন কেবলই দুই হেভিওয়েটের এই দ্বৈরথ নিয়ে চর্চা।
রাজ্যের ২৯৪ আসনের এই বিধানসভা নির্বাচন আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভবানীপুরের এই ‘মহা-লড়াই’-এর চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হবে ৪ মে ফল ঘোষণার দিন। আপাতত দুই শিবিরের মিছিল ও রোড-শো ঘিরে কলকাতার রাজনীতির পারদ আকাশছোঁয়া। শুভেন্দু বনাম মমতার এই সরাসরি সংঘাত আগামী দিনে রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।