জেট ফুয়েলের দাম আকাশছোঁয়া, উড়ানের ভাড়ায় বড়সড় বৃদ্ধির আশঙ্কা

জেট ফুয়েলের দাম আকাশছোঁয়া, উড়ানের ভাড়ায় বড়সড় বৃদ্ধির আশঙ্কা

এপ্রিলের শুরুতেই রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পেল এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা জেট ফুয়েলের দাম। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ভারতে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি পূর্ববর্তী সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে, যার ফলে কিলো লিটার প্রতি এটিএফ-এর দাম ২.০৭ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে। এর ফলে আকাশপথে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের পকেটে বড় টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ খরচ হয় জ্বালানি খাতে। ফলে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বোঝা সামাল দিতে বিমান সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ রুটে ফুয়েল সারচার্জ বাড়াতে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর প্রভাবে অভ্যন্তরীণ উড়ানের টিকিটের দাম ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই ভাড়ার পরিমাণ আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিমান সংস্থাগুলো খরচ নিয়ন্ত্রণে আনতে ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে ভৌগোলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ রুটে দামের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখলেও আন্তর্জাতিক রুটে সম্পূর্ণ বর্ধিত মূল্যই কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে এভিয়েশন সেক্টর একটি বড়সড় সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল আকাশপথেই সীমাবদ্ধ নেই। একই দিনে কলকাতায় বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২,২০৮ টাকায় পৌঁছেছে। একদিকে বিমানের টিকিটের দাম বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ ও যাতায়াতের ওপর দ্বিমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে জ্বালানির দাম কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *