ইরানের নিশানায় অ্যামাজন, ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলায় তীব্র চাঞ্চল্য

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ওপর বড়সড় আঘাত হানল ইরান। বাহরিনে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স ও প্রযুক্তি সংস্থা অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। যদিও এই হামলায় সরাসরি ডেটা সেন্টারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তবে এর আশেপাশের এলাকায় বিস্ফোরণের জেরে পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাহরিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হলেও সেখানে সরাসরি সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এই হামলা আকস্মিক নয়। এর আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে তারা আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। মূলত মেটা, গুগল, অ্যাপল এবং মাইক্রোসফটের মতো ১৮টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা বর্তমানে ইরানের নিশানায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যে সমস্ত সংস্থা ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল অবকাঠামো পরিচালনা করে, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেটা সেন্টারে হামলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS) বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, যার ওপর ভারতসহ বহু দেশের ব্যাংকিং, অ্যাপ ও ওয়েব পরিষেবা নির্ভরশীল। এই ধরনের ডিজিটাল পরিকাঠামোয় বড় আঘাত এলে বিশ্বজুড়ে অনলাইন লেনদেন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। যদিও ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকায় তাৎক্ষণিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব, তবুও এই সাইবার ও ফিজিক্যাল ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবছে দেশগুলি।
এদিকে এই ঘটনার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মার্কিন কোনো সংস্থা বা তাদের পরিকাঠামোর ওপর আঘাত আসলে আমেরিকা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এই হামলাকে আমেরিকার স্বার্থের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হবে এবং এর যথাযোগ্য জবাব দেওয়া হবে। ওয়াশিংটনের এই অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
গুগল বা অ্যাপলের মতো সংস্থাগুলির ডেটা সেন্টারে বিপর্যয় ঘটলে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। জিমেইল, ইউটিউব, আইক্লাউড এবং ম্যাপসের মতো পরিষেবাগুলি ব্যাহত হলে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়বেন। এর আগে অ্যামাজনের সার্ভারে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থমকে যাওয়ার নজির রয়েছে। বর্তমানে এই যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।