মহুয়ার মন্তব্যে ক্ষমা চাইলেন মমতা, হিন্দু ভোট ভাগের অভিযোগ তুলে সরব শুভেন্দু

মহুয়ার মন্তব্যে ক্ষমা চাইলেন মমতা, হিন্দু ভোট ভাগের অভিযোগ তুলে সরব শুভেন্দু

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের গুজরাতি বিরোধী মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। শনিবার কৃষ্ণনগরের সাংসদ বাঙালি অস্মিতার দোহাই দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে গুজরাতিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাংবাদিক বৈঠকে দেওয়া সেই বিতর্কিত বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আসরে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর এলাকার গুজরাতি বাসিন্দাদের কাছে সরাসরি ক্ষমা চেয়ে নিয়ে তিনি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে বিপুল সংখ্যক গুজরাতি ভোটারদের বাস। মহুয়ার মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সেখানে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই পরিস্থিতিতে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুকে বিশেষ বার্তা পাঠান তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি স্পষ্ট জানান যে, মহুয়ার এই মন্তব্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং দল কোনোভাবেই এই ধরনের বৈষম্যমূলক বক্তব্য সমর্থন করে না।

কাউন্সিলর অসীম বসুর মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার সমস্ত গুজরাতি ভাই ও বোনেদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাদের নিয়ে আমি গর্বিত। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য আর ঘটবে না বলে আমি আশ্বস্ত করছি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।” এই বার্তার মাধ্যমে তিনি দ্রুত ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা করেন।

অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাতে ভবানীপুরে পৌঁছে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল নেত্রী ভাষার নামে হিন্দুদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, বিজয়া সম্মিলনী থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী প্রতিনিয়ত বাঙালি বনাম বহিরাগত তকমা দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক রক্ষার রাজনীতি করছেন।

শুভেন্দু অধিকারী আরও যোগ করেন যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দিনশেষে সকলে সনাতনী। তাঁর অভিযোগ, মহুয়া মৈত্রকে শিখিয়ে দেওয়া কথা বলানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নাটকীয়ভাবে ক্ষমা চাইছেন। তবে এবার গুজরাতি বা বাঙালি—কোনো স্তরেই হিন্দু ভোট ভাগ হবে না বলে তিনি হুঙ্কার দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এই মন্তব্য এবং পাল্টা ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা ভবানীপুরের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *