হনুমান জয়ন্তী ২০২৬: পবনপুত্রের আশীর্বাদে সুখ ও সমৃদ্ধি পেতে প্রিয়জনদের পাঠান এই শুভেচ্ছাবার্তা

ভক্তি ও শক্তির অনন্য প্রতীক মহাবীর হনুমানের জন্মোৎসব বা হনুমান জয়ন্তী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে প্রতি বছর এই উৎসব পালিত হয়। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই বিশেষ দিনটি পালিত হচ্ছে ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। অশুভ শক্তি বিনাশকারী এবং শ্রীরামের পরম ভক্ত হনুমানজির আরাধনায় মেতে উঠেছেন সারা ভারতের ভক্তকূল।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, হনুমানজিকে শক্তির আধার এবং সংকট মোচনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অদম্য ভক্তি ও আনুগত্যের জন্য পরিচিত পবনপুত্রকে সন্তুষ্ট করতে ভক্তরা হনুমান চালিসা ও সুন্দরকাণ্ড পাঠ করেন। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠাভরে তাঁর উপাসনা করলে জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সাহস ও জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় ঐতিহ্য মেনে মন্দিরে ও গৃহে এই পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হনুমান জয়ন্তীর পুণ্য লগ্নে পরিবারের মঙ্গল কামনায় আরাধনা করা শুভ। পবনপুত্রের আশীর্বাদে ভক্তরা রোগমুক্ত ও সুস্থ জীবনের প্রার্থনা করেন। বিশেষ করে রামায়ণ অনুসারে, সঞ্জীবনী বুটি এনে লক্ষ্মণের প্রাণ রক্ষা করায় তাঁকে ‘লক্ষ্মণ প্রাণদাতা’ হিসেবেও পূজা করা হয়। এ দিন সকালে স্নান সেরে লাল বা হলুদ বস্ত্র পরিধান করে হনুমানজির বিশেষ মন্ত্র ও স্তব পাঠে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে সোশ্যাল মিডিয়া এক বড় মাধ্যম। এই বিশেষ দিনে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানাতে “শুভ হনুমান জয়ন্তী” বা “জয় বজরংবলি” সম্বলিত বার্তার চাহিদা তুঙ্গে। “বজরংবলির কৃপায় আপনার জীবন সুখ ও শান্তিতে ভরে উঠুক”—এমন আন্তরিক কামনায় ভরে উঠছে নেটমাধ্যম। ভক্তদের বিশ্বাস, হনুমানজির চরণে ভক্তি নিবেদন করলে সমস্ত স্বপ্ন পূরণ হয়।
হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরে বিশেষ ভোগের আয়োজন ও ধর্মীয় শোভাযাত্রা বের করা হয়েছে। ভক্তরা সিঁদুর ও লাড্ডু নিবেদন করে পবনপুত্রের আশীর্বাদ ভিক্ষা করছেন। সারা দেশের সঙ্গে এ রাজ্যেও বজরংবলির মন্দিরগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পবিত্র উৎসব মানুষের মনে একতা, সাহস এবং ভক্তির নতুন প্রেরণা জোগায়।