২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠানোর হুমকি ট্রাম্পের, শুরু হচ্ছে বিধ্বংসী হামলা

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়ানোর কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তেহরানের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের দাবি, এই হামলার লক্ষ্য হলো ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া, যা ওয়াশিংটনের মতে তাদের বর্তমান অবস্থানের যোগ্য প্রতিফল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের বিরুদ্ধে গত এক মাস ধরে চলা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। এই সময়ের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ কিছু সিদ্ধান্তমূলক বিজয় অর্জন করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। ইরানকে বিশ্বের বৃহত্তম সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা দেশ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের মূল কারণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তেহরান যদি কোনোভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তবে তা সমগ্র বিশ্বের জন্য এক অসহনীয় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাঁর মতে, গত ৫০ বছর ধরে ইরান যে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে, বর্তমান যুদ্ধ তারই পাল্টা জবাব। মার্কিন ও মুক্ত বিশ্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে রোখা আমেরিকার প্রধান লক্ষ্য।
তবে সামরিক অভিযানের কথা বললেও ইরানে ‘ক্ষমতা পরিবর্তন’ বা শাসনব্যবস্থা বদলানো আমেরিকার লক্ষ্য নয় বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেন, ওয়াশিংটনের সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য রয়েছে এবং সেগুলো অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান থামবে না। বর্তমানে আমেরিকা সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই তাদের সমস্ত উদ্দেশ্য পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো আমেরিকার পাশে থাকায় তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি আশ্বাস দেন যে, সহযোগী দেশগুলোর কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না এবং ওয়াশিংটন সর্বদা তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ ইরান ও আমেরিকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিপজ্জনক হতে চলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।