পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে একাই লড়ছে কংগ্রেস, ২৯৪ আসনেই প্রার্থী ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশলে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে রাজ্যের সমস্ত আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করল সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি)। বুধবার বাকি থাকা ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে কংগ্রেস এখন রাজ্যের মোট ২৯৪টি আসনেই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করল। আসন্ন দুই দফার নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
গত ২৯ মার্চ এআইসিসি পশ্চিমবঙ্গের ২৮৪টি আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছিল। বুধবারের তালিকায় আলীপুরদুয়ার, ইসলামপুর, গাজোল, ফারাক্কা, সাগরদিঘি, বেলডাঙা, বাদুড়িয়া, অশোকনগর, শ্রীরামপুর এবং পটাশপুর—এই ১০টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। তবে শেষ দফার এই তালিকায় কোনো হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম নেই বলে জানা গেছে।
কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে বামফ্রন্টের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের নির্বাচনী সমঝোতায় ইতি ঘটল। ২০১৬ সাল থেকে বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত আসন ভাগাভাগি করে লড়লেও, এবার এককভাবে লড়াই করার পথ বেছে নিয়েছে কংগ্রেস। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট উভয় পক্ষই রাজ্যে কোনো আসন জিততে ব্যর্থ হয়েছিল।
রাজ্যে এবারের বিধানসভা নির্বাচন মূলত চতুর্মুখী হতে চলেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপির পাশাপাশি বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস পৃথকভাবে লড়ছে। তবে কয়েকটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মিম এবং হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বাধীন আম আদমি উন্নয়ন পার্টির জোট নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল—এই দুই দফায় রাজ্যের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। প্রথম দফায় ১৫২টি আসন এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে নির্বাচনী তালিকার বিশেষ পুনরীক্ষণের (এসআইআর) বিষয়ে কংগ্রেসের সমর্থন চাওয়া হলেও, হাত শিবিরের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই কঠিন রাজনৈতিক আবহে কংগ্রেসের একলা চলার নীতি ভোটব্যাংকে কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে দল যেমন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে, তেমনি তৃণমূল ও বিজেপির ভোট কাটাকুটির অঙ্কে তারা কতটা লাভবান হবে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।