তেভাগার মাটি বালুরঘাটে এসআইআর আতঙ্ক ভোটাধিকার রক্ষায় নয়া সংগ্রামের ডাক

ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বালুরঘাটে ২০২৬-এর নির্বাচনী আবহে এসআইআর ইস্যু কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ১৯৪৬ সালে ফসলের অধিকারের লড়াইয়ে প্রাণ দেওয়া ২২ জন কৃষকের উত্তরসূরিরা আজ নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় শঙ্কিত। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘকাল ভোট দেওয়ার পরেও কি আজ নতুন করে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? এই জনমানসের ভয় ও অনিশ্চয়তাকেই হাতিয়ার করে বিরোধী বিজেপি শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটসহ ছয়টি বিধানসভা আসনেই জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া তৃণমূল নেতৃত্ব। বালুরঘাট কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ বিজেপি বিধায়কের জনসংযোগহীনতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগকে বড় ইস্যু করেছেন। অন্যদিকে, কুশমন্ডি ও কুমারগঞ্জের মতো জেতা আসনগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি বিজেপি অধিকৃত গঙ্গারামপুর ও তপন পুনরুদ্ধারেও বিশেষ নজর দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘৬-০’ ব্যবধানে জয়ের ডাক জেলা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এবারের নির্বাচনে পরিচিতির দিক থেকে তৃণমূল প্রার্থীরা খানিকটা এগিয়ে থাকলেও লড়াইয়ের ময়দান বেশ কঠিন। বিশেষত বালুরঘাট কেন্দ্রে টানা দশ বছর তৃণমূলের কোনো বিধায়ক নেই। ২০২১ সালে বিজেপির অশোক লাহিড়ী এখানে জয়ী হলেও এবার পরিস্থিতি পাল্টাবে বলে আশাবাদী শহরবাসী। বাম ও বিজেপি প্রার্থীরা জোরকদমে প্রচার চালালেও, সাধারণ মানুষের কাছে নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার রক্ষাই এখন প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেভাগার বিপ্লবের সুরেই বালুরঘাটের অলিগলিতে এখন এসআইআর বিরোধী আন্দোলনের আওয়াজ জোরালো হচ্ছে।