জাল আধার কার্ড সহ জলপাইগুড়িতে ধৃত ১৪

পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) তৎপরতায় ধরা পড়ল ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। দিল্লিগামী নর্থ-ইস্ট এক্সপ্রেস থেকে তাঁদের আটক করা হয়। ধৃতদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ৫ জন মহিলা এবং ৪ জন নাবালক রয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আরপিএফ ইন্সপেক্টর বিপ্লব দত্তের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ধৃতদের তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু সন্দেহজনক নথি উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। আরপিএফ সূত্রে খবর, ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে ভুয়ো ভারতীয় আধার কার্ড এবং মালয়েশিয়ান কারেন্সি বা মুদ্রা পাওয়া গেছে। বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই তাঁরা ভারতীয় সীমান্ত পার হয়ে এ দেশে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ। পরিচয় গোপন রাখতে তাঁরা জাল পরিচয়পত্র তৈরি করেছিলেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতরা জেরায় দাবি করেছেন যে তাঁরা কাজের সন্ধানে কাশ্মীরে যাচ্ছিলেন। তবে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, তাঁদের আসল লক্ষ্য ছিল ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়া। ভারতের ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তাঁরা বুলগেরিয়ার মেডিকেল ভিসা জোগাড় করার চেষ্টা করছিলেন। অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার এই ছক বানচাল করতে সক্ষম হয়েছে রেল পুলিশ।
বর্তমানে ওই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ইতিমধ্যেই তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বা ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আউটার ডিস্ট্রিক্টের ফরেনার সেল এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে। বিশেষ করে জাল আধার কার্ড তৈরির পিছনে কোনো বড়সড় আন্তর্জাতিক পাচারচক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ বর্তমানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান বা ভেরিফিকেশন ড্রাইভ চালাচ্ছে। এই ঘটনার পর রেলস্টেশন ও জনবহুল এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। ভিনদেশি নাগরিকরা যাতে কোনোভাবেই জাল নথি ব্যবহার করে ভারতে বসবাস বা এ দেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে এই গ্রেফতারি সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাল নথির কারবার রুখতে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারকারীদের জাল কতদূর বিস্তৃত, সেই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। স্থানীয় প্রশাসন ও রেল পুলিশ সাধারণ মানুষকেও অপরিচিত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেখলে দ্রুত খবর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।