হোরমুজ প্রণালী থেকে তেল আমদানির প্রয়োজন নেই আমেরিকার, সাফ জানালেন ট্রাম্প

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোরমুজ প্রণালী নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে দেশগুলোর এই জলপথ দিয়ে তেল আমদানির প্রয়োজন, তাদেরই এটি সচল রাখার বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান শিপিংয়ের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত না করে, তবে আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে।
ট্রাম্পের মতে, আমেরিকার বর্তমানে এই সামুদ্রিক পথের ওপর নির্ভর করার কোনো প্রয়োজন নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব জ্বালানি সম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে থাকায় এই রুটটি তাদের জন্য অপরিহার্য নয়। তাই যেসব দেশ হোরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে জ্বালানি সংগ্রহ করে, সেই দেশগুলোকেই এই রাস্তার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভৌগোলিক দিক থেকে হোরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২৫ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের পাশাপাশি আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। ইরান বর্তমানে এই পথটি ব্যবহার করে শিপিং বন্ধ করে দেওয়ায় জাহাজ চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারতের বার্ষিক জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ এই হোরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা তেলের ওপর নির্ভরশীল। ইরান মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুদ্ধ সমর্থনকারী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এই পথটি অবরুদ্ধ করেছে। এর ফলে প্রতিদিন শত শত কন্টেইনার, ড্রাই বাল্ক এবং লিকুইড কার্গোবাহী জাহাজের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, যা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে হোরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান যদি তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসে এবং আমেরিকা যদি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বশক্তিগুলো এখন নজর রাখছে পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে।