২০ লাখ পর্যন্ত সম্পত্তি কেনাবেচায় আর লাগবে না প্যান কার্ড, আজ থেকেই কার্যকর নতুন নিয়ম

দেশের সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র সম্পত্তি ক্রেতাদের বড় স্বস্তি দিয়ে আজ ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হলো নতুন আয়কর নিয়ম। এখন থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে স্থায়ী আমানত নম্বর বা প্যান (PAN) কার্ড প্রদর্শন আর বাধ্যতামূলক থাকছে না। মূলত ছোট অংকের লেনদেন সহজতর করতে এবং আইনি জটিলতা কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পূর্ববর্তী নিয়মানুযায়ী, ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের যেকোনো জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট বা দোকান হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই প্যান কার্ড জমা দেওয়া ছিল আবশ্যিক। বর্তমান কর সংস্কারের আওতায় এই সীমাকে দ্বিগুণ করে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত এবং গ্রামীণ এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষেরা এখন প্যান কার্ড ছাড়াই ছোটখাটো ভূসম্পত্তি নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।
এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ফলে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর থেকে কাগজের কাজের চাপ অনেকটা কমবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় যেখানে অনেকেই প্যান কার্ডের আওতায় নেই, তাদের জন্য সম্পত্তি রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক গতিশীল ও স্বচ্ছ হবে। এটি ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ বা ব্যবসা সহজীকরণ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই ছাড় শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্তই প্রযোজ্য। যদি কোনো সম্পত্তির বাজারমূল্য বা লেনদেনের পরিমাণ ২০ লাখ টাকা অথবা তার বেশি হয়, তবে আগের মতোই প্যান কার্ড প্রদান বাধ্যতামূলক থাকবে। এছাড়া বড় অংকের পেমেন্ট বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব কেওয়াইসি (KYC) নিয়ম বজায় থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত রিয়েল এস্টেট সেক্টরে ছোট বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দেবে। আগে ১৫ লাখ টাকার সম্পত্তিতেও প্যান কার্ড দিতে হতো, কিন্তু আজ থেকে সেই বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। তবে সম্পত্তি বিক্রয় পরবর্তী ক্যাপিটাল গেইন বা মূলধনী লাভের ওপর কর ছাড়ের দাবি করতে হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্যান কার্ডের ব্যবহার প্রয়োজনীয় হতে পারে।
নতুন এই নিয়মের ফলে ক্ষুদ্র ভূমি মালিক ও প্রান্তিক ক্রেতারা সরাসরি উপকৃত হবেন। এটি মূলত ছোট অংকের বাজার ব্যবস্থাকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। প্রশাসনের আশা, এই স্বচ্ছ নিয়মাবলি সম্পত্তি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় দালালচক্রের প্রভাব কমিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি অনেকটাই লাঘব করবে।