নিজেদের তেলের ব্যবস্থা নিজেরাই করুন, মার্কিন হুঁশিয়ারিতে কাঁপছে বিশ্ব বাজার

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে তীব্র হয়েছে জ্বালানি সংকট। এই পরিস্থিতিতে মিত্র দেশগুলোর ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের সমাধান এবার দেশগুলোকেই করতে হবে। বিশেষ করে হরমোজ প্রণালীতে সৃষ্ট বাধার কারণে যে দেশগুলো জেট ফুয়েল পাচ্ছে না, তাদের নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজন মেটাতে নিজেরাই পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত ব্রিটেন ও ফ্রান্সের কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, সংকটে পড়া দেশগুলো চাইলে আমেরিকা থেকে তেল কিনতে পারে অথবা সরাসরি উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে। আমেরিকা আজীবন অন্যের বোঝা টানবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। পাশাপাশি, ফ্রান্স কেন ইসরায়েলগামী মার্কিন সামরিক বিমানকে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে আমেরিকা এই আচরণ মনে রাখবে।
বর্তমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত ৩০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড়সড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের পথ হরমোজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল থমকে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। যুদ্ধের শুরুতে তেলের দাম যা ছিল, বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের মূল্য তার চেয়ে ৪৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানকে কড়া বার্তা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্রুত যুদ্ধবিরতি না হলে এবং হরমোজ প্রণালী উন্মুক্ত না করা হলে আমেরিকা ইরানের তেল উৎপাদন কেন্দ্র ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালাবে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে কিছু ট্যাঙ্কার ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে সেই প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। সঠিক সমঝোতা না হলে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বর্তমানে আমেরিকা এক নতুন ও বিচক্ষণ শাসনের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হলেও কূটনৈতিক মহলে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। একদিকে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে বিস্ফোরণ এবং অন্যদিকে কুয়েতি তেল ট্যাঙ্কারে পালটা হামলার ঘটনা সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে। মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।