শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিল ও বিচার প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে ট্রাইব্যুনালে চিঠি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ল ফার্ম ‘কিংসলি ন্যাপলি’। দলীয় নেতা মোহাম্মদ আলী আরাফাত নিশ্চিত করেছেন যে, লন্ডনের এই আইনি প্রতিষ্ঠানটি শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দশ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি ও ‘সামারি এক্সিকিউশন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিটি এখনো তাদের হাতে পৌঁছেনি। তবে সংবাদমাধ্যমের বরাতে তিনি বিষয়টিকে ট্রাইব্যুনালকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। চিঠিতে বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চিঠি হাতে পাওয়ার পরই তারা এ বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক মতামত দেবেন।
আইনি বিশেষজ্ঞরা এই চিঠির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, পলাতক অবস্থায় কারো আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই এবং আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত আপিল করার অধিকার থাকে না। ফলে আন্তর্জাতিক বা দেশীয় আইনে এই চিঠির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তিনটি পৃথক অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করে।