ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামির সতর্কতা জারি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার মোলুক্কা সাগরে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে অনুভূত এই কম্পনের ফলে কেবল বিশাল অট্টালিকাই কেঁপে ওঠেনি, বরং সমুদ্রের তলদেশে সৃষ্ট আলোড়নে সুনামির প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের বিপজ্জনক ‘রিং অফ ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত এই অঞ্চলে প্রকৃতির এমন রুদ্রমূর্তিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে সাতটা নাগাদ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তর মালুকু প্রদেশের তেরনাতে শহর থেকে প্রায় ১২৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কম্পনের মাত্রা ৭.৮ মনে করা হলেও পরবর্তীকালে তা সংশোধন করে ৭.৪ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। মূল কম্পনের পর ৫ মাত্রার বেশ কিছু আফটারশক বা অনুকম্পনও অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ১,০০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ধ্বংসাত্মক ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু এবং উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশে উচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। কোনো প্রকার ঝুঁকি না নিয়ে তটবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রায় ২৮ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় এখানে অসংখ্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ও টেকটোনিক ফল্ট লাইন রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই দ্বীপপুঞ্জটি বরাবরই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করে আসছে। বিগত বছরগুলোতেও ভয়াবহ সব ভূমিকম্প ও সুনামিতে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ইতিহাসের ভয়াবহতম স্মৃতি হিসেবে আজও ২০০৪ সালের সুনামির কথা জনমানসে অমলিন, যেখানে প্রায় ২.৩ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৮ এবং ২০২২ সালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোতেও ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবহাওয়া ও ভূবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে ঘোষণা করেছেন। উপকূলীয় বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।