ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধস, বিপাকে বিনিয়োগকারীরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণ বিশ্বজুড়ে সোনার বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের অবসান ঘটার পরিবর্তে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার দাম এক ধাক্কায় ২.৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। হঠাৎ এই দরপতনে বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে দাবি করেছেন, বর্তমান সংঘাত শেষ পর্যায়ে এবং সামরিক লক্ষ্যসমূহ প্রায় অর্জিত। তবে শান্তি নয় বরং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে চরম জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ রুটে মিত্র দেশগুলোকে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে বলায় বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে।
ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের প্রভাবে ডলার ও অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও বিশ্ব শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। অন্যান্য খাতে লোকসান মেটাতে বিনিয়োগকারীরা এখন মজুদ করা সোনা বিক্রি করে নগদ টাকা সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। মূলত এই কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম দ্রুত নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি সোনা প্রতি আউন্স ৪,৮০০ ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করলেও এখন সেই উর্ধ্বগতি থমকে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি কোনো যুদ্ধবিরতি নয় বরং নতুন করে সামরিক অভিযানের আগাম সতর্কবার্তা। ফলে বাজারে ঝুঁকি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন, যা মূল্যবান ধাতুর বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চলতি মার্চ মাসে সোনার দাম প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে, যা ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির জেরে সুদের হার কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় সোনার ভবিষ্যৎ এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিঙ্গাপুরের বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৭০৩.১৮ ডলারে নেমেছে। কেবল সোনা নয়, রুপার দামেও ২.৮ শতাংশ বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। এর পাশাপাশি প্লাটিনাম এবং প্যালেডিয়ামের বাজার দরও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।