স্বামীকে খুন করে ২০ কিমি দূরে দেহ লোপাট, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি স্ত্রীর

বিহারের পূর্ণিয়ায় পারিবারিক বিবাদের জেরে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। কসবা থানার রাধানগর এলাকার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী সুনীতা দেবী ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামী উমেশ কুমার সিংয়ের গলা কেটে হত্যা করেন বলে জানা গেছে। খুনের প্রমাণ লোপাট করতে মৃতদেহটি বস্তাবন্দি করে বাড়ি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে আমোর থানার পালসা ঘাটের কাছে ফেলে আসা হয়। এই ঘটনার পর অভিযুক্ত স্ত্রী নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং নিজের অপরাধ কবুল করেন।
তদন্তে জানা গেছে, বুধবার সকালে উমেশ সিংয়ের ছোট ছেলে ঘরে ফিরে মেঝের রক্ত দেখে আঁতকে ওঠে, কিন্তু তার বাবার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তল্লাশি শুরু হয়। পরবর্তীতে আমোর থানার পুলিশ রাস্তার ধারে পড়ে থাকা একটি রহস্যময় বস্তা উদ্ধার করে, যার ভেতর থেকে নিখোঁজ উমেশ কুমারের দেহ শনাক্ত করা হয়। অভিযুক্ত স্ত্রী পুলিশের কাছে দাবি করেন, তাকে যেন দ্রুত জেলে পাঠানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিবাদের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। মৃতের ভাই মহেশ জানিয়েছেন, উমেশ তার স্ত্রীর নামে একটি গ্রুপ লোন নিয়েছিলেন এবং সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়েই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিনের গোলমাল চলছিল। পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে যে, ২০ কিলোমিটার দূরে দেহটি বয়ে নিয়ে যেতে সুনীতাকে আর কারা সাহায্য করেছিল। সদর এসডিপিও রাজেশ কুমার এবং কসবা থানার আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।