ভোটের মুখে কমিশনের তৎপরতা, সপ্তম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল সিইও দপ্তর

ভোটের মুখে কমিশনের তৎপরতা, সপ্তম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল সিইও দপ্তর

ভোটের নির্ঘণ্ট বেজে যাওয়ার পর ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে বড়সড় অগ্রগতি ঘটাল নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর থেকে ‘এসআইআর’ সংক্রান্ত সপ্তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিবেচনাধীন থাকা বিপুল সংখ্যক নাম নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াটি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশোধনী প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত মোট ৪৯ লক্ষ ৬২ হাজার ৮৫০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে। অথচ শুরুতে বিবেচনাধীন তালিকায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম ছিল। সেই হিসাবে বর্তমানে ১০ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮২৫টি নামের নিষ্পত্তি এখনও বাকি রয়েছে। তবে এই সংশোধনীর ফলে কতজনের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানায়নি কমিশন।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল যে, প্রায় ৪৭ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। শীর্ষ আদালতকে কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যেই বাকি সমস্ত কাজ সম্পন্ন করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় এই বিপুল সংখ্যক বিবেচনাধীন নামের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল।

নির্বাচনী বিধি মোতাবেক, প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যাঁদের নাম তালিকায় থাকবে, তাঁরাই ভোটাধিকার পাবেন। প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য এই সময়সীমা ৬ এপ্রিল নির্ধারিত রয়েছে। ফলে ৬ এপ্রিল রাত পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াটি ভোটারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে কমিশন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল বিকেল ৪টেয় এই সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।

এদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এসইউসিআই-এর কর্মী-সমর্থকেরা। একই সঙ্গে তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের একাংশ সিইও মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে সরব হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলকাতা পুলিশ স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করেছে, যা কয়লাঘাটা ক্রসিং থেকে কিরণশঙ্কর রায় রোড পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *