মুখের সব ব্যাকটেরিয়া কি ক্ষতিকর? সুস্থ থাকতে টুথপেস্ট ব্যবহারে আমূল পরিবর্তনের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সকল ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয়, বরং ভালো ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শরীরের হজম প্রক্রিয়া ও মাড়ির সুরক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, অতিরিক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার বা বেশিক্ষণ মুখে ফেনা ধরে রাখলে হিতে বিপরীত হতে পারে। টুথপেস্টে থাকা ট্রাইক্লোসান বা সোডিয়াম লরিল সালফেট (SLS)-এর মতো উপাদানগুলো ভালো ও মন্দ নির্বিশেষে সব ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দেয়।
মুখগহ্বরে প্রায় ৭০০-র বেশি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থাকে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ওরাল মাইক্রোবায়োম’ বলা হয়। টুথপেস্টের অতি-সক্রিয় উপাদানগুলো এই স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত করলে দাঁতের ক্যাভিটি এবং মাড়ির সমস্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। মুখ পরিষ্কার রাখা জরুরি হলেও এটি সম্পূর্ণ ব্যাকটেরিয়া-মুক্ত হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যদি অন্ত্রে পৌঁছায়, তবে তা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে। এর ফলে অন্ত্রে প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং হজমজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরের অভ্যন্তরীণ এই অদৃশ্য ভারসাম্য বজায় রাখা সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত টুথপেস্টের রাসায়নিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার জন্ম দিতে পারে। দীর্ঘকাল উপকারী ব্যাকটেরিয়ার অভাব থাকলে মাড়ির প্রদাহ, মুখে দুর্গন্ধ এবং দাঁতের সংবেদনশীলতা বা সেনসিটিভিটি দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
সুস্থ দাঁত ও মাড়ির জন্য বিশেষজ্ঞরা অল্প পরিমাণ অর্থাৎ মাত্র একটি ‘মটর দানা’ সমান ফ্লোরাইড যুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। ব্রাশ করার সময় এবং টুথপেস্টের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। ওরাল মাইক্রোবায়োম বা মুখের স্বাভাবিক পরিবেশ অটুট রাখতে নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।