তছনছ হতে পারত পাকিস্তান, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে নৌসেনা প্রধানের বিস্ফোরক দাবি

তছনছ হতে পারত পাকিস্তান, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে নৌসেনা প্রধানের বিস্ফোরক দাবি

অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তানের ওপর সামুদ্রিক পথে হামলা চালানোর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল ভারতীয় নৌবাহিনী। মুম্বাইয়ে এক নৌ-অলঙ্করণ অনুষ্ঠানে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ভারতের নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে ত্রিপাঠী। তিনি জানান, আক্রমণের জন্য বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই আঘাত হানা হতো, ঠিক সেই মুহূর্তে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের জরুরি অনুরোধ আসে।

নৌসেনা প্রধানের মতে, গত বছর এপ্রিলে পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর শুরু হওয়া এই অপারেশন ভারতীয় নৌবাহিনীর রণপ্রস্তুতি ও সংকল্পের এক অনন্য উদাহরণ। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ইউনিট মোতায়েন এবং আক্রমণাত্মক অবস্থান বজায় রেখে বাহিনী তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠীর দাবি, নৌবাহিনীর এই দৃঢ় অবস্থান দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আমজনতার বিশ্বাস ও ভরসাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে গত বছরের সাহসী ভূমিকার জন্য দুই শীর্ষ নৌ-আধিকারিককে ‘যুদ্ধ সেবা পদক’-এ ভূষিত করা হয়। অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী স্পষ্ট করেন যে, পাকিস্তানের ওপর হামলার বিষয়টি এখন আর কোনো গোপন রহস্য নয়। ভারতের কঠোর অবস্থানের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি। ভারতীয় নৌবাহিনীর এই অভাবনীয় তৎপরতা আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ বার্তা দিয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নৌসেনা প্রধান। তিনি জানান, ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতের ফলে হরমোজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন ১৩০টি জাহাজ যাতায়াত করত, এখন তা কমে মাত্র ৬-৭ টিতে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১৯০০ বাণিজ্যিক জাহাজ বর্তমানে ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাণিজ্যে।

অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠীর মতে, আধুনিক রণকৌশল ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন যুদ্ধক্ষেত্রকে আরও জটিল করে তুলছে। বর্তমানে সমুদ্র কেবল মহাদেশীয় সংঘাতের সম্প্রসারণ নয়, বরং কৌশলগত ক্ষমতা প্রদর্শনের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত গত এক বছরে ১২টি নতুন জাহাজ ও সাবমেরিন নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *