ইরানকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠানোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠানোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এক চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে এক বিশাল সামরিক হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের দাবি, এই হামলার মাধ্যমে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়া হবে, যা আদতে তাদের প্রাপ্য স্থান।

ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘এপিক ফিউরি’। ১৯ মিনিটের দীর্ঘ বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানের পরমাণু হুমকি এবং দীর্ঘ ৪৭ বছরের সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই যুদ্ধকে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, ৩২ দিন ধরে চলা এই সংঘাতের লক্ষ্য অর্জনের পথে আমেরিকা এখন অজেয়।

এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫.৩৮ ডলারে ঠেকেছে। বিশেষ করে হরমোজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ার বাজারেও; জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং হংকংয়ের বাজার সূচকে বড় পতন লক্ষ করা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ হিসেবে ইজরায়েল, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েতকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে তাঁর এই আগ্রাসী অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। প্রাক্তন মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট সময়সীমা বা সমাপ্তির পরিকল্পনা নেই, যা সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। ইরান পাল্টা হামলার হুমকি দিয়ে রাখায় জ্বালানি তেলের সংকটে থাকা ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সংকেত না থাকায় বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আতঙ্কিত। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *