মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে আমদানিতে স্বস্তি দিয়ে বেশ কিছু রাসায়নিক পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিল সরকার

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে আমদানিতে স্বস্তি দিয়ে বেশ কিছু রাসায়নিক পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিল সরকার

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে সৃষ্ট বিঘ্ন মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। দেশের শিল্পখাতকে সুরক্ষা দিতে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একগুচ্ছ প্রয়োজনীয় পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত কলকারখানায় কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এনহাইড্রাস অ্যামোনিয়া, মিথানল, অ্যাসিটিক অ্যাসিড, ফিনল এবং পিভিসি-সহ প্রায় ৪০টিরও বেশি রাসায়নিক পণ্যের ওপর আর কোনো কাস্টমস ডিউটি দিতে হবে না। এই তালিকায় থাকা পণ্যগুলো প্লাস্টিক, প্যাকেজিং, বস্ত্র, ওষুধ, অটো পার্টস এবং অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের মূল ভিত্তি। এর ফলে ওষুধের দাম থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহৃত পণ্যের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের ফলে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ায় রিফাইনারি সংস্থাগুলো শিল্পের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ দিচ্ছিল। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও ওষুধের মতো শ্রমঘন শিল্পগুলো কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতির মুখে পড়েছিল। শুল্কমুক্ত আমদানির এই সুবিধা সেই চাপ অনেকটা লাঘব করবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মুনাফায় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

পেট্রোকেমিক্যালের ওপর এই কর ছাড়ের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটেও পৌঁছাবে। প্যাকেজিং এবং পরিবহন ব্যয় কমলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই ছাড় কার্যকর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *