স্ত্রীর শাড়ি পরে সাজেন স্বামী, লিঙ্গ পরিবর্তন ঘিরে ভেঙে গেল ১১ বছরের সংসার

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ ১১ বছরের দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টেনে ডিভোর্সের আবেদন জানিয়েছেন এক নারী। ওই নারীর স্বামী একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, যিনি এখন নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করে নারী হতে চান। ইতিমধ্যেই তিনি হরমোনের ওষুধ খাওয়া শুরু করেছেন এবং নারীদের মতো পোশাক ও প্রসাধন ব্যবহার করছেন। এমনকি সরকারি নথিতেও নিজের নাম পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রথমদিকে তিনি বিষয়টিকে নিছক মজা বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে স্বামীর আচরণে আমূল পরিবর্তন আসে এবং তিনি নিয়মিত শাড়ি ও গয়না পরতে শুরু করেন। বেঙ্গালুরু থেকে ফেরার পর থেকেই তাঁর আচরণে এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও ওই ব্যক্তি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এখন থেকে তাঁকে যেন পুরুষ নয় বরং নারী হিসেবেই গণ্য করা হয়।
দীর্ঘ তিক্ততার পর অবশেষে দুই পক্ষই পারস্পরিক সম্মতিতে ফ্যামিলি কোর্টে বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। ২০১৩ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। বিচ্ছেদের সমঝোতা হিসেবে স্বামী স্ত্রীকে ১৮ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। চলতি মাসেই আদালত এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে পারে। পেশাদার কর্মজীবনে সফল হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনে লিঙ্গ পরিচিতির এই টানাপোড়েনে একটি সাজানো সংসার ভেঙে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।