ট্রেন যাত্রায় নারী যাত্রীদের ৯ বিশেষ অধিকার ও সুবিধা জানা আছে কি
ভারতীয় রেলের সুবিশাল নেটওয়ার্কে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতায়াত করেন। নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে রেলওয়ে বেশ কিছু বিশেষ নিয়ম ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে, যা সম্পর্কে অধিকাংশ মহিলাই সম্পূর্ণ অবগত নন। একা ভ্রমণ হোক বা পরিবারের সঙ্গে, এই অধিকারগুলো জানা থাকলে রেলযাত্রা অনেক বেশি নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত হয়। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে এই নিয়মগুলো ঢাল হিসেবে কাজ করে।
রেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, টিকিট না থাকলেও রাতে কোনো নারী বা নাবালককে ট্রেন থেকে নামানো যাবে না। ভারতীয় রেল আইন, ১৯৮৯-এর ১৩৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো নারী যাত্রী টিকিটহীন অবস্থায় ধরা পড়লে এবং জরিমানা দিতে অক্ষম হলেও তাঁকে মাঝরাস্তায় নামিয়ে দেওয়া দণ্ডনীয়। সেক্ষেত্রে তাঁকে পরবর্তী জেলা সদর স্টেশন পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে এবং আরপিএফ বা জিআরপি তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।
নারী যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রতিটি ট্রেনে সংরক্ষিত কোচ ও আসনের ব্যবস্থা থাকে। স্লিপার ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ‘লেডিস কোটা’র অধীনে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বরাদ্দ থাকে। এছাড়া ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বের মহিলা, গর্ভবতী বা বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য স্লিপার, ৩-এসি এবং ২-এসি কোচে নিচের বার্থ বা লোয়ার বার্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই নিয়মটি বয়স্ক ও শারীরিক প্রতিকূলতা থাকা নারীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
নিরাপত্তার খাতিরে ভারতীয় রেল ‘মেরি সহেলি’ উদ্যোগ চালু করেছে। এর অধীনে একা ভ্রমণকারী নারীদের সুরক্ষায় মহিলা নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়, যাঁরা যাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধার তদারকি করেন। ভ্রমণের সময় কোনো নারী নিজের আসনে অস্বস্তি বোধ করলে সরাসরি টিটিই-র সঙ্গে কথা বলে আসন পরিবর্তনের অনুরোধ জানাতে পারেন। এছাড়া স্টেশনগুলোতে নারীদের জন্য পৃথক টিকিট কাউন্টার ও সুরক্ষিত ওয়েটিং লাউঞ্জের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য রেলওয়ের ২৪x৭ হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯ সবসময় সচল থাকে। যেকোনো ধরনের হেনস্থা বা বিপদে এই নম্বরে কল করে সাহায্য চাওয়া সম্ভব। এছাড়া স্টেশন ও ট্রেনের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি বর্তমানে আরও জোরদার করা হয়েছে। রেলের এই বিশেষ আইনি সুরক্ষা ও পরিষেবাগুলো গ্রহণ করলে নারীদের প্রতিটি সফর হবে আত্মবিশ্বাসী এবং নিরাপদ।