কালিয়াচকে বিচারবিভাগীয় অফিসারদের ঘেরাও মমতার, উস্কানি ও তৃণমূলের মদতে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ তোপ সুকান্ত দিলীপের

কালিয়াচকে বিচারবিভাগীয় অফিসারদের ঘেরাও মমতার, উস্কানি ও তৃণমূলের মদতে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ তোপ সুকান্ত দিলীপের

মালদার কালিয়াচকে বিচারবিভাগীয় অফিসারদের ঘেরাও এবং কনভয়ে হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। এই ঘটনার জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উস্কানি’ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ‘মদত’কে দায়ী করেছেন গেরুয়া শিবিরের এই দুই শীর্ষ নেতা।

সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কালিয়াচকে কর্তব্যরত সাতজন বিচারবিভাগীয় অফিসারকে শুধু আটকানোই হয়নি, তাঁদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকি পুলিশ যখন তাঁদের উদ্ধার করতে যায়, তখন মহিলা ম্যাজিস্ট্রেটদের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। সুকান্তের মতে, বাম আমলে ঘটে যাওয়া আধিকারিক খুনের ঘটনার মতোই এখানে একটি অশুভ পরিকল্পনা ছিল, যার নেপথ্যে রয়েছে সরকারের শীর্ষ মহলের ধারাবাহিক উস্কানিমূলক মন্তব্য।

অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষ কালিয়াচকের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, কালিয়াচকে এমন ঘটনা নতুন নয়, এর আগেও সেখানে থানায় আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই এলাকায় অসামাজিক ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। দিলীপের সরাসরি অভিযোগ, তৃণমূলের মদতেই এই এলাকা অশান্ত হচ্ছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা আসাম্ভব হয়ে পড়বে।

কালিয়াচকের পরিস্থিতি বুধবার বিকেল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা বিচারবিভাগীয় অফিসারদের কনভয় আটকে রাখে। মাঝরাত পর্যন্ত চলা এই অচলাবস্থা কাটাতে পুলিশকে বিশাল বাহিনী নিয়ে ময়দানে নামতে হয়। রাত ১২টা নাগাদ অফিসারদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পুলিশের কনভয় যাওয়ার সময় আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা লাঠিচার্জ এবং গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ।

বর্তমানে কালিয়াচকে অবরোধ উঠলেও এলাকা থমথমে রয়েছে। সাতজন আধিকারিকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, প্রশাসনের গাফিলতি এবং শাসকদলের প্রশ্রয়েই দুষ্কৃতীরা এই সাহস পাচ্ছে। সব মিলিয়ে কালিয়াচক ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *