কলকাতাসহ ৮ জেলায় তীব্র দহনজ্বালার সতর্কতা, দুপুরে বাড়ির বাইরে বেরোনোয় নিষেধাজ্ঞা

দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার স্বমহিমায় ফিরছে গ্রীষ্ম। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রার পারদ ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পারদ চড়ার পাশাপাশি বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরম সীমায় পৌঁছাবে। ফলে প্যাচপ্যাচে গরমে সাধারণ মানুষের নাজেহাল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে শুষ্ক পশ্চিমি ও উত্তর-পশ্চিমি বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে। এর প্রভাবে ২ এপ্রিল থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করবে। এই সময়কালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকতে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে আর্দ্রতার পরিমাণ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তীব্র গরমের জেরে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং পুরুলিয়ায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ৩ ও ৪ এপ্রিল থেকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হবে কলকাতা ও বীরভূম জেলাও। বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত না থাকায় শুষ্ক আবহাওয়ায় রোদের তেজ আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।
প্রখর রোদ ও তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত অত্যন্ত জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শরীর সতেজ রাখতে তেষ্টা না পেলেও নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যাপ্ত জল পানের কথা বলা হয়েছে।
গত কয়েক দিনের ঝড়-বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রার যে সাময়িক পতন ঘটেছিল, তা এখন অতীত। বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি কেটে যাওয়ায় এখন হু হু করে বাড়বে গরম। উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত আবহাওয়া থাকলেও দক্ষিণবঙ্গে আপাতত দুর্যোগের কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী কয়েক দিন রোদের দাপট ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া দফতর।