সবচেয়ে বেশি মেরুকরণের রাজ্য বাংলা, মালদার ঘটনায় রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

মালদার কালিয়াচকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ও হেনস্থার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মেরুকরণের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। আদালত এই বিক্ষোভকে কেবল একটি সাধারণ ঘটনা নয়, বরং ‘পূর্বপরিকল্পিত, সুচিন্তিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, বিকেল থেকে জমায়েত শুরু হলেও রাত পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করা যায়নি। এমনকি উদ্ধার করে ফেরার পথেও তাঁদের গাড়িতে পাথর ছোড়া ও লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়। আদালতের মতে, এই ঘটনা সরাসরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত এবং প্রশাসনের চরম গাফিলতির প্রমাণ।
বিচারপতিদের বেঞ্চ রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশ মহানির্দেশককে (ডিজিপি) কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছে। আদালত প্রশ্ন তুলেছে, আগাম তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন আধিকারিকদের সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন যে, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজ্যে প্রশাসনের সর্বস্তরে রাজনৈতিক প্রভাব প্রকট হয়ে উঠেছে এবং দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণে অনীহা দেখা যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি রুখতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। বিচার বিভাগীয় আধিকারিক এবং তাঁদের পরিবার যদি হুমকির আশঙ্কা বোধ করেন, তবে তাঁদের বাসভবনেও কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, শুনানির সময় আদালত চত্বরে ৫ জনের বেশি জমায়েত এবং আপত্তির জন্য ২-৩ জনের বেশি লোকের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনায় মুখ্যসচিব, ডিজিপি, সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক এবং এসএসপি-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে। আগামী ৬ এপ্রিল তাঁদের সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং নিরপেক্ষতার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।