সিএপিএফ বিল নিয়ে উত্তাল রাজনীতি, জওয়ানদের মনোবল ভাঙার বড় চক্রান্ত বলে তোপ দাগলেন রাহুল গান্ধী

লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) বিল, ২০২৬-কে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই প্রস্তাবিত আইনটিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার এক পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। রাহুল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রে কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে এই বৈষম্যমূলক আইনটি অবিলম্বে বাতিল করা হবে। জওয়ানদের অধিকার রক্ষায় তার দল আপসহীন লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
রাহুল গান্ধীর দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সাধারণ প্রশাসন) বিলটি এমন এক দিনে লোকসভায় আলোচনার জন্য আনা হয়েছে যখন তিনি আসামের নির্বাচনী সফরে ব্যস্ত। তিনি জানান যে, গত বুধবারই তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যাতে বিলটি পাশের সময়সূচী কিছুটা পরিবর্তন করা হয়, কারণ তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করতে চেয়েছিলেন। তবে সরকারের এই অনমনীয় মনোভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন যে, কেন্দ্র চায় না এই স্পর্শকাতর বিষয়ে তিনি সংসদে কথা বলুন। প্রসঙ্গত, বুধবারই রাজ্যসভায় বিলটি ধ্বনিভোটে পাশ হয়েছে।
নকশাল হামলায় আহত সিআরপিএফ অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অজয় মালিকের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল গান্ধী এই ব্যবস্থার গভীর সঙ্কটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের জন্য নিজের পা হারানো একজন বীর জওয়ান ১৫ বছরের বেশি সেবা করার পরেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোকে দায়ী করেন, যেখানে শীর্ষ পদগুলো শুধুমাত্র আইপিএস অফিসারদের জন্য সংরক্ষিত। তার মতে, এটি কেবল একজনের সমস্যা নয় বরং লক্ষ লক্ষ সিএপিএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে চলা এক প্রাতিষ্ঠানিক অবিচার।
বিরোধী দলনেতার মতে, এই জওয়ানরা সীমান্তে মোতায়েন থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ ও নকশাল দমনে নিজেদের জীবন বাজি রাখেন। এমনকি গণতন্ত্রের উৎসব নির্বাচনকেও তারা নিরাপদ করেন। অথচ তাদের অধিকার ও সম্মানের প্রশ্ন উঠলেই প্রশাসন মুখ ফিরিয়ে নেয়। রাহুল অভিযোগ করেন যে, সিএপিএফ জওয়ানরা নিজেরাই এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং সুপ্রিম কোর্টও এই ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার এই অবিচারকে আইনি রূপ দিয়ে স্থায়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
রাহুল গান্ধী আরও সতর্ক করে বলেন যে, এই বিলটি কেবল কর্মজীবনের সুযোগ নষ্ট করা নয় বরং এটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়ার শামিল। প্রথম সারির রক্ষীবাহিনীর মনোবল ভেঙে গেলে দেশের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, কংগ্রেস কেবল মৌখিক সম্মানে বিশ্বাসী নয় বরং নীতির মাধ্যমে জওয়ানদের প্রকৃত অধিকার সুনিশ্চিত করবে। দেশের জন্য লড়াই করা প্রতিটি জওয়ানের বাহিনীতে নেতৃত্ব দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।