সরকারি কোষাগারে উপচে পড়া রাজস্ব ১৫.৫২ লক্ষ কোটির গণ্ডি ছাড়াল

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পরোক্ষ কর আদায়ের ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করল ভারত সরকার। অর্থ মন্ত্রক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা বা রিভাইজড এস্টিমেটকে (আরই) অতিক্রম করে ১৫.৫২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি এই রাজস্ব প্রাপ্তি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার এক ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজস্বের এই বিপুল ভাণ্ডার গড়ে তুলতে মূলত তিনটি ক্ষেত্র অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। কাস্টমস ডিউটি থেকে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১০২ শতাংশ এবং আবগারি শুল্ক থেকে ১০১ শতাংশ রাজস্ব আদায় হয়েছে। পাশাপাশি, সেন্ট্রাল জিএসটি (সিজিএসটি) সংগ্রহের হারও ছিল লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সমান, অর্থাৎ ১০০.৮ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে জিএসটি এবং নন-জিএসটি মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রার ১০১.২ শতাংশ কর সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে প্রশাসন।
তবে সামগ্রিক সাফল্য থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সেস সংগ্রহের পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে অনেকটা কম। পান মশলা উৎপাদনকারী ইউনিটগুলোর ওপর আরোপিত এই সেস থেকে ২,৩৩০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে সংগৃহীত হয়েছে মাত্র ৬৩ শতাংশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় প্রাথমিক স্তরে এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।
সরকার আশাবাদী যে ব্যবস্থাটি স্থিতিশীল হলে আগামী দিনে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। বর্তমান অর্থবর্ষে এই বিশেষ সেস খাত থেকে ১৪,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এই কর সংগ্রহের খতিয়ান সরকারের রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা প্রমাণ করলেও নির্দিষ্ট কিছু সংবেদনশীল ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।