নির্বাচন কমিশনের বড় স্বস্তি, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত এসএসসি আধিকারিকদের ভোটের কাজে মিলল ছাড়
রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটাতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) যে সমস্ত আধিকারিক ও কর্মী বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের নির্বাচনী ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মূলত সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে অধিকাংশ সরকারি কর্মীকে ভোটের কাজের আওতায় আনা হয়েছিল। এর ফলে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাত্র ৩৫ জন কর্মীর মধ্যে ২৪ জনকেই নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কমিশনের আধিকারিকদের এই মুহূর্তে ভোটের কাজে ব্যবহার করা হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা আসাম্ভব হয়ে পড়ত। এই সঙ্কট নিরসনে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এসএসসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে নিয়োগের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে হবে। বর্তমানে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অভিজ্ঞ আধিকারিকদের অভাব থাকলে গোটা আইনি প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কমিশনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, এসএসসি একটি স্বশাসিত সংস্থা হওয়ার কারণে এর কর্মীদের সরাসরি ভোটের কাজে টেনে নেওয়া কাম্য নয়।
শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতকে জানানো হয়, শিক্ষক নিয়োগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তারা এসএসসি-র ওই আধিকারিকদের ভোটের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে কমিশনের এই ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। বিচারপতি জানান, এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না এবং সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। কমিশনের এই পদক্ষেপে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থীর মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্ট সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল ঘোষণা করেছিল। সেই রায় সুপ্রিম কোর্টও বহাল রাখে এবং দ্রুত অযোগ্যদের সরিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের নির্দেশ দেয়। শীর্ষ আদালতের সেই কড়া নির্দেশ পালনে বর্তমানে কোমর বেঁধে নেমেছে এসএসসি কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই লিখিত পরীক্ষা পর্ব শেষ হয়েছে এবং যোগ্য প্রার্থীদের যাচাই করার কাজ চলছে। আধিকারিকরা এখন কাজ চালিয়ে যাওয়ার সবুজ সংকেত পাওয়ায় নিয়োগের গতি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি জট খোলার পথে আরও এক ধাপ এগোনো গেল। প্রশাসনের এই সমন্বয়ের ফলে একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের কাজ চলবে, অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীদের স্কুলগুলোতে নিযুক্ত করার প্রক্রিয়াও নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় থাকবে। এখন এসএসসি কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য হলো ৩১ অগস্টের চূড়ান্ত সময়সীমার মধ্যে সমস্ত ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা।