ফোনে মেসেজ এলেও ঢোকেনি বকেয়া টাকা! ১২ এপ্রিল কালীঘাট অভিযানের ডাক সরকারি কর্মীদের

ফোনে মেসেজ এলেও ঢোকেনি বকেয়া টাকা! ১২ এপ্রিল কালীঘাট অভিযানের ডাক সরকারি কর্মীদের

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র দাবিতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কর্মীদের সংঘাত এবার চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার পর ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও, তাতে বিস্তর গরমিলের অভিযোগ তুলেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। তাঁদের দাবি, অনেকের মোবাইলে ডিএ পাওয়ার মেসেজ এলেও বাস্তবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা জমা পড়েনি। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে আগামী ১২ এপ্রিল ফের পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার শুধুমাত্র ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া মেটানোর কথা ঘোষণা করেছে। ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের বকেয়া নিয়ে সরকার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দেয়নি। কর্মীদের অভিযোগ, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসন টালবাহানা করছে এবং মূল নির্দেশিকা অমান্য করছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াতে ১২ এপ্রিল কালীঘাট অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে ধর্মতলা থেকে কালীঘাট যাওয়ার পরিকল্পনা পুলিশ আটকে দিলেও, এবার কর্মীরা আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আগামী ১২ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ হাজরা মোড়ে জমায়েত করবেন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে হরিশ মুখার্জি রোড হয়ে মিছিলটি কালীঘাটের দিকে এগোবে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই বিশাল মিছিল সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার বিভাজনের রাজনীতি করছে। সাধারণ সরকারি কর্মীদের একটি অংশকে সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হলেও স্কুল শিক্ষক, পুরসভা ও পঞ্চায়েত কর্মীদের বকেয়া নিয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা নেই। কর্মীদের একাংশের দাবি, প্রাপ্য টাকার মাত্র ২৫ শতাংশও তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। এই অস্পষ্টতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবার আর শুধু কর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষকেও পাশে পাওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে।

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতারা জানিয়েছেন, সরকার যে সাধারণ মানুষের কাছে কর্মীদের সমস্যা মিটে যাওয়ার দাবি করছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাবেন যে সরকার ডিএ নিয়ে তথ্য গোপন করছে। সম্পূর্ণ বকেয়া না মেটা পর্যন্ত এবং সকল স্তরের কর্মীদের সমান অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। বকেয়া ডিএ-র দাবিতে এবার সরাসরি প্রশাসনের শীর্ষ মহলে বার্তা পৌঁছে দিতেই এই কালীঘাট অভিযানের পরিকল্পনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *