ইন্ডিগোর টিকিটে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি চার্জ দিতে হবে
দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো বড়সড় দুঃসংবাদ শোনাল সাধারণ যাত্রী ও বিনিয়োগকারীদের। জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম সামাল দিতে বিমান ভ্রমণের খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল তারা। বুধবার অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিগো আজ থেকেই নতুন ফুয়েল সারচার্জ কার্যকর করেছে। এর ফলে ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক—উভয় রুটের বিমান টিকিটের জন্যই যাত্রীদের এখন থেকে কিলোমিটার ও রুট অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা গুণতে হবে। জ্বালানির বর্ধিত এই বোঝা সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে গিয়ে পড়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে এই বাড়তি চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইন্ডিগোর এই সিদ্ধান্তের পর টিকিটের মূল ভাড়ার সঙ্গে এখন নতুন করে যোগ হবে এই সারচার্জ। গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশ ভ্রমণের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মে কিছু আন্তর্জাতিক সেক্টরে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি মাসুল দিতে হতে পারে। এই নজিরবিহীন ভাড়া বৃদ্ধির ফলে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিমান ভাড়া বাড়ার মূল কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে দায়ী করছে ইন্ডিগো। অপরিশোধিত তেলের দাম লাগাতার বাড়তে থাকায় তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেট ফুয়েলে। উল্লেখ্য, একটি বিমান সংস্থার মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ খরচ হয় জ্বালানি খাতে। জ্বালানির দাম এভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুরোনো ভাড়ায় পরিষেবা বজায় রাখা আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, কেন্দ্র সরকার যদি অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম আংশিক নিয়ন্ত্রণ না করত, তবে বিমান ভ্রমণের খরচ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেত।
ভাড়া বাড়ার এই ঘোষণার পরই শেয়ার বাজারে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ইন্ডিগোর মূল সংস্থা ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশন। বৃহস্পতিবারের ট্রেডিং সেশনে সংস্থার শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পড়ে যায়। গত এক মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ইন্ডিগোর শেয়ার দর ইতিমধ্যেই ১০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এদিন সেনসেক্স ও নিফটির সামগ্রিক পতনের মধ্যেও বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রের এই ধস বিশেষভাবে নজরে পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই আতঙ্কে আগামী দিনে এভিয়েশন সেক্টরের প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে থমকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, জেট ফুয়েলের ক্রমবর্ধমান দাম, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং বাড়তি সারচার্জের কারণে বিমানের টিকিটের চাহিদা কমতে পারে। এর ফলে এমকে গ্লোবাল এবং এইচএসবিসি-র মতো বড় বিনিয়োগ সংস্থাগুলি ইন্ডিগোর শেয়ারের টার্গেট প্রাইস বা লক্ষ্যমাত্রা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে জ্বালানির জাঁতাকলে পড়ে একদিকে যেমন সাধারণ যাত্রীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, তেমনই লগ্নিকারীদের মধ্যেও ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিমান পরিষেবা আপাতত সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।