পকেটে টান পড়বে আমজনতার, এবার বাড়তে চলেছে টায়ারের দাম

পকেটে টান পড়বে আমজনতার, এবার বাড়তে চলেছে টায়ারের দাম

দেশের বাজারে টায়ারের দাম একধাক্কায় অনেকটা বাড়তে চলেছে, যা সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। মূলত উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই টায়ার প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি এই মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক রবারের দামে ব্যাপক উল্লম্ফন ঘটায় এমআরএফ, অ্যাপোলো টায়ার্স, জেক টায়ার এবং সিয়েটের মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলি এখন গভীর সংকটে। বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যেই ১ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাব এবার সরাসরি ভারতে পড়তে চলেছে।

সংবাদ সূত্রে খবর, টায়ার তৈরির কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দামই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। টায়ার উৎপাদনে ব্যবহৃত সিন্থেটিক রবার, কার্বন ব্ল্যাক এবং প্রসেসিং অয়েলের দাম প্রায় ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও প্রাকৃতিক রবার, যা একটি টায়ার তৈরির ব্যয়ের প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ দখল করে থাকে, তার দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। ১০০ কেজি প্রাকৃতিক রবারের দাম ১৮,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ২১,৬০০ টাকায় পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি ডলারের তুলনায় টাকার অবমূল্যায়ন এবং শিপিং খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিকৃত পণ্যের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচামালের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে টায়ার উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির লাভের হার বা মার্জিন প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এই আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে সংস্থাগুলি এপ্রিল ২০২৬ থেকে টায়ারের দাম ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে রিপ্লেসমেন্ট মার্কেটে এই বর্ধিত দাম সবার আগে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে যারা পুরনো টায়ার বদলে নতুন টায়ার কেনার কথা ভাবছেন, তাদের বাড়তি টাকা গুণতে হবে।

এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে বিভিন্ন স্তরের যানবাহনের ওপর। বাইক বা স্কুটারের টায়ারের দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে, চার চাকার গাড়ির টায়ার সেট প্রতি ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত দামী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাক ও বাসের টায়ারের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই পণ্য পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজারে, অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে পরোক্ষভাবে বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হবে।

কৃষি ক্ষেত্রও এই মূল্যবৃদ্ধির আঁচ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ট্রাক্টরের টায়ার দামী হলে কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়বে, যা কৃষকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে অটোমোবাইল সংস্থাগুলিও নতুন গাড়ির দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী দিনে পরিবহণ ও অটো সেক্টরে বড়সড় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *