এআই কেড়েছে চাকরি, স্বামীর আত্মহত্যার শোক সইতে না পেরে ১৭ তলা থেকে ঝাঁপ স্ত্রীর

বেঙ্গালুরুতে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার দম্পতির মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৩২ বছর বয়সী টেকি বানুচন্দ্র রেড্ডি দীর্ঘ এক বছর বেকার থাকার পর মানসিক অবসাদে ভুগে নিজের বাড়িতেই আত্মহত্যা করেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে তাঁর স্ত্রী, যিনি বহুজাতিক সংস্থা আইবিএম-এ কর্মরত ছিলেন, আবাসনটির ১৭ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবন বিসর্জন দেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তীব্র আর্থিক অনটন এবং পারিবারিক বিবাদের জেরেই তাঁরা এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, বানুচন্দ্র আগে আমেরিকায় চাকরি করতেন, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপটে কাজ হারিয়ে এক বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। এরপর দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও নিজের পেশায় স্থিতিশীল কোনো কাজের সুযোগ পাননি তিনি। একদিকে কর্মহীনতার জ্বালা, অন্যদিকে ভিন্ন ধর্মে বিয়ে করার কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা—এই দ্বিমুখী চাপে দম্পতির জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। বানুচন্দ্রের বাবা তেলাঙ্গনার একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হওয়া সত্ত্বেও এই দম্পতি বেঙ্গালুরুতে প্রায় একাকী ও অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন।
পুলিশ উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে দেখেছে যে বানুচন্দ্র নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি এবং তাঁর স্ত্রীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার প্রযুক্তিবিদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে এআই, যার শিকার হলেন এই তরুণ ইঞ্জিনিয়ারও। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনাটির নেপথ্যে থাকা অন্যান্য কারণ খতিয়ে দেখছে। টেক জগতের এই অমানবিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক চাপের মেলবন্ধনে একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন অকাল সমাপ্তিতে শোকের ছায়া নেমেছে।