ট্রাম্পের নয়া ট্যারিফ বাণে কাঁপছে বিশ্ববাজার, ওষুধের দামে ১০০ শতাংশ করের হুঁশিয়ারিতে উদ্বেগ

ট্রাম্পের নয়া ট্যারিফ বাণে কাঁপছে বিশ্ববাজার, ওষুধের দামে ১০০ শতাংশ করের হুঁশিয়ারিতে উদ্বেগ

বিশ্বজুড়ে নিজের একাধিপত্য কায়েম করতে ফের একবার ট্যারিফ বা করের অস্ত্র প্রয়োগ করতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে তেল বাজারে অস্থিরতা তৈরির পর এবার স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম এবং জীবনদায়ী ওষুধের ওপর বিশাল কর আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ এবং বিশেষ কিছু ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বসানোর পরিকল্পনা করছে। আগামী সপ্তাহেই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকার অভ্যন্তরীণ আদালত সম্প্রতি ট্রাম্পের আগের কিছু ট্যারিফ সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দিয়েছিল। আদালতের সেই ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই নতুন করে করের বোঝা চাপানোর এই কৌশল বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মূলত যে সমস্ত ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা আমেরিকায় সস্তায় ওষুধ সরবরাহের গ্যারান্টি চুক্তি স্বাক্ষর করেনি, তাদের ওপরই এই ১০০ শতাংশ করের খড়্গ নেমে আসতে পারে। ট্রাম্পের সাফ কথা, বিদেশি সংস্থাগুলো যদি আমেরিকায় উৎপাদন না করে চড়া দামে ওষুধ বিক্রি করে, তবে তাদের চড়া মাশুল গুনতে হবে।

ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়েছে। জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দামের মধ্যে ট্রাম্পের এই নতুন ট্যারিফ নীতি মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন বাজারে উচ্চমূল্যে ওষুধ বিক্রি করা সংস্থাগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ট্রাম্পের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট— দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে আরও জোরালো করা।

ভারতের মতো দেশের জন্য ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ওষুধ আমেরিকায় রপ্তানি করে। মার্কিন সরকারের এই নতুন কড়াকড়ির ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কো ম্পা নিগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আমেরিকার বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ভারত মূলত আমেরিকায় জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি করে থাকে, যা সাধারণত সস্তা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ কর ছাড় পায়। যদি ট্রাম্পের এই নতুন ট্যারিফ নীতি জেনেরিক ওষুধের ওপর বড় প্রভাব না ফেলে, তবে ভারতীয় সংস্থাগুলোর সামনে এটি একটি নতুন সুযোগ হয়েও দেখা দিতে পারে। আপাতত বিশ্ব তাকিয়ে আছে আগামী সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামীর বিশ্ব বাণিজ্য ও ওষুধের বাজার কোন পথে চলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *