ইস্তফার আগেই নীতীশ কুমারকে ‘প্রাক্তন’ তকমা দিয়ে বিতর্ক উসকে দিলেন তেজস্বী যাদব

বিহারের রাজনীতিতে ফের বড়সড় ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নিরাপত্তা এবং পদত্যাগ ঘিরে তৈরি হওয়া এক প্রশাসনিক চিঠিকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একটি চিঠিতে নীতীশ কুমারকে প্রায় ‘প্রাক্তন’ হিসেবে উল্লেখ করায় বিহারের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত স্বরাষ্ট্র দপ্তরের (বিশেষ শাখা) একটি বিজ্ঞপ্তি থেকে। সেখানে জানানো হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়ার পরও নীতীশ কুমার ‘জেড প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাবেন। তবে এই চিঠির ভাষায় আপত্তি তুলেছেন তেজস্বী যাদব। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা না দিলেও সরকারি আমলারা তাঁকে এখনই প্রাক্তন হিসেবে গণ্য করতে শুরু করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ওই চিঠি শেয়ার করে তেজস্বী লিখেছেন, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের এমন ‘আসাম্মানজনক’ বিদায় তাঁর দলের সমর্থকরা স্বপ্নেও ভাবেননি। তিনি দাবি করেন, পদত্যাগের আগেই সরকারি নথিপত্রে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় বর্তমান জেডিইউ নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের সমন্বয় নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন লালু-পুত্র।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ১০ এপ্রিল তিনি শপথ গ্রহণ করতে চলেছেন। এর আগেই ৩০ মার্চ তিনি বিহার বিধান পরিষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তাঁর বিদায় এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই বিশেষ নিরাপত্তা আইনের অধীনে তাঁর সুরক্ষাকবচ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
তবে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের আগে এই ধরনের প্রশাসনিক তৎপরতা বিরোধী শিবিরের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তেজস্বীর এই মন্তব্যের পর এনডিএ শিবির এখনো পালটা প্রতিক্রিয়া দেয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীতীশ কুমারের এই ক্রান্তিকালে তেজস্বী যাদবের আক্রমণ বিহারের রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। শেষ পর্যন্ত ইস্তফার দিন ঘনিয়ে আসার আগে এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।