হোরমুজ সংকটে ব্রিটেনের জরুরি তলব, ভারতের সক্রিয় উপস্থিতিতেই মিলবে সমাধান

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের আবহে হোরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে যুক্তরাজ্য। এই সংকট নিরসনে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে আয়োজিত ৩৫টি দেশের হাই-প্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিচ্ছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি এই জরুরি বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করবেন। মুক্ত নৌ-চলাচল এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ সুরক্ষিত রাখাই এই আলোচনার প্রধান উদ্দেশ্য।
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করেছে ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, ইরান থেকে এ পর্যন্ত ১,২০০-র বেশি ভারতীয়কে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪৫ জনই ছাত্র। সরাসরি বিমান পথ ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধারকৃতদের প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মাধ্যমে ট্রানজিট দিয়ে ভারতে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত নাগরিকদের মধ্যে ৯৯৬ জনকে আর্মেনিয়া এবং ২০৪ জনকে আজারবাইজানে পাঠানো হয়েছে। সেখানকার ভারতীয় মিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাঁদের ভারতে ফেরানোর পূর্ণ ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে বিদেশ মন্ত্রক। সরকারের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলে শিক্ষার্থীরা বিশেষ ভাবে উপকৃত হচ্ছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলায় আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার ভারতীয় দূতাবাসগুলি ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি পরিকাঠামো রক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছেন। সম্প্রতি সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুই নেতার আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিরসন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং আন্তর্জাতিক নৌ-সীমায় নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতা দ্বিতীয় মাসে পা রাখায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতীয়দের স্বদেশে ফেরার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লক্ষ ভারতীয় ওই অঞ্চল থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভারত সরকার উদ্ধার অভিযান এবং আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক তৎপরতা জারি রাখবে বলে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।