২৫০ বছরের দেশের কাছে হার মানবে না, ৬ হাজার বছরের সভ্যতা আমেরিকার হুমকির কড়া জবাব দিল ইরান

২৫০ বছরের দেশের কাছে হার মানবে না, ৬ হাজার বছরের সভ্যতা আমেরিকার হুমকির কড়া জবাব দিল ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানোর হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আমেরিকার এই প্রচ্ছন্ন হুমকির পাল্টা জবাব দিয়ে ইরানি সামরিক কমান্ডারের দাবি, ওয়াশিংটন আসলে নিজেদের সেনাদের কবরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ২৫০ বছরের ইতিহাস নিয়ে একটি রাষ্ট্র যখন ৬,০০০ বছরের পুরনো সমৃদ্ধ সভ্যতাকে ধ্বংস করার কথা বলে, তখন তা অবাস্তব কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে ইরান মন্তব্য করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের একটি পোস্টের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। মুসাভি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠানোর চিন্তা আসলে হলিউডের তৈরি একটি ভ্রান্ত ধারণা যা মার্কিন কর্তাদের মনে বিষের মতো কাজ করছে।

বিতর্কের সূত্রপাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা আগের তুলনায় নমনীয় হলেও আমেরিকা তাদের ওপর কড়া নজর রাখছে। তিনি শর্ত দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালী যদি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং অবাধ না থাকে, তবে ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে অথবা প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ‘ব্যাক টু স্টোন এজ’ লিখে পোস্ট করেন।

জবাবে ইরানি জেনারেল মুসাভি বলেন, যারা একটি হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতাকে হুমকি দিচ্ছে, তারা আসলে ইতিহাসের প্রকৃত শক্তি সম্পর্কে অজ্ঞাত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আমেরিকার এই রণকৌশল কেবল তাদের নিজেদের সৈন্যদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। আধুনিক সমরশক্তির দম্ভ থাকলেও দীর্ঘকালীন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তি ইরানকে লড়াকু মানসিকতা জোগায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে এই বাকযুদ্ধ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমেরিকা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের ওপর বিচার করার আশ্বাস দিলেও, তাদের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা চ্যালেঞ্জ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সামগ্রিকভাবে, আমেরিকার নবীন রাষ্ট্র কাঠামোর বিপরীতে ইরানের হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যকে হাতিয়ার করে তেহরান এই দ্বন্দ্বে নিজেদের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। কূটনৈতিক স্তরে এই উত্তাপ কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *