সম্পত্তিতে অধিকার থাকলে মা-বাবার সেবাতেও সমান দায়বদ্ধ কন্যারা জানাল হাইকোর্ট

সম্পত্তিতে সমান অধিকারের পাশাপাশি বার্ধক্যে মা-বাবার দেখাশোনা ও ভরণপোষণের ক্ষেত্রেও পুত্র ও কন্যাসন্তানদের সমান দায়িত্ব পালন করতে হবে। এক মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ পেশ করেছে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সন্তানরা যখন মা-বাবার সম্পত্তির ওপর অধিকার দাবি করে, তখন তাঁদের শেষ বয়সে পাশে থাকার নৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা থেকেও তারা সরে আসতে পারে না।
সূর্যপেট জেলার এক ৬৬ বছর বয়সী বৃদ্ধার দায়ের করা পিটিশনকে কেন্দ্র করেই এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন বিচারপতি বি. বিজয়সেন রেড্ডি। ওই বৃদ্ধার অভিযোগ ছিল, তাঁর পুত্র তাঁকে অবহেলা করছে এবং প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে নিজের সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। বর্তমানে ওই বৃদ্ধা তাঁর মেয়ের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন।
আদালতে পেশ করা তথ্যে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ‘প্যারেন্টস অ্যান্ড সিনিয়র সিটিজেন মেইনটেন্যান্স’ আইনের অধীনে কর্মকর্তাদের কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই বৃদ্ধার অভিযোগ, সেই নির্দেশ কার্যকর করতে প্রশাসনিক ও পুলিশি সহায়তা মেলেনি। রাজস্ব বিভাগীয় আধিকারিক বা আরডিও-র আদেশ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন উদাসীন ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
বিচারপতি এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মা-বাবার যত্ন নেওয়ার বিষয়টি লিঙ্গভেদে আলাদা হতে পারে না। যদি কোনও দম্পতির একমাত্র সন্তান কন্যা হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই সেই দায়িত্ব তাঁর ওপর বর্তায়। সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার সময় কন্যারা যেমন সমান ভাগ পান, মা-বাবার বার্ধক্যের রক্ষণাবেক্ষণেও তাঁদের ভূমিকা একই হওয়া উচিত।
এই মামলায় সূর্যপেট জেলা প্রশাসনকে দ্রুত ব্যাখ্যা তলব করেছে হাইকোর্ট। প্রশাসনের কেন এই বিলম্ব এবং কেন বৃদ্ধাকে সহায়তা করা হয়নি, সেই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতের এই অবস্থান বৃদ্ধ মা-বাবাদের অধিকার রক্ষায় একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।