আয়করদাতাদের সুবিধায় আয়কর বিভাগের বিশেষ এআই চ্যাটবট কর সাথী চালু

ভারতের আয়কর বিভাগ করদাতাদের রিটার্ন জমার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে একটি নতুন ওয়েবসাইট এবং উন্নত এআই-ভিত্তিক চ্যাটবট ‘কর সাথী’ চালু করেছে। আয়কর আইন ২০২৫-এর আওতায় এই পরিষেবাটি মূলত করদাতাদের ঝামেলামুক্ত অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। সরকারের জাতীয় সচেতনতা অভিযান ‘প্রারম্ভ ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে এই বিশেষ এআই ফিচারটি যুক্ত করা হয়েছে, যা নতুন কর বিধি ও পদ্ধতি সম্পর্কে নাগরিকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে।
নতুন এই পোর্টালে আয়কর সংক্রান্ত সমস্ত ফর্ম, ফাইলিং প্রক্রিয়া এবং নির্দেশিকা একই প্ল্যাটফর্মে রাখা হয়েছে। পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত ‘কর সাথী’ চ্যাটবটটি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের রিয়েল-টাইম উত্তর দিতে সক্ষম। রিটার্ন দাখিল থেকে শুরু করে নতুন নিয়ম বোঝা এবং ফর্মে তথ্য যাচাইয়ের মতো কাজগুলোতে এটি সরাসরি সহায়তা করে। এর ফলে কোনো তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়াই সাধারণ মানুষ সহজেই প্রযুক্তির মাধ্যমে কর সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডাইরেক্ট ট্যাক্সেস বা সিবিডিটি-র চেয়ারম্যান রবি আগরওয়াল জানিয়েছেন যে, ‘প্রারম্ভ’ বা ‘পলিসি রিফর্ম অ্যান্ড রেসপনসিবল অ্যাকশন ফর মিশন বিকশিত ভারত’ প্রকল্পটি মূলত একটি ‘নাগরিক-বান্ধব’ উদ্যোগ। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো কর ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি ও আইনি জটিলতা কমিয়ে স্বচ্ছতা আনা। পয়লা এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন কর সংস্কারগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও প্রচার চালানো হচ্ছে।
আধুনিক এই কর ব্যবস্থায় নিয়মকানুন সহজ করার পাশাপাশি ফর্মের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনা হয়েছে। আয়কর কর্মকর্তাদের মতে, আইটি রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘কর সাথী’ এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। পোর্টালে লগইন করার পর থেকে রিটার্ন জমার প্রতিটি ধাপে ব্যবহারকারীদের গাইড করবে এই প্রযুক্তি। এমনকি ফর্ম ১৬ আপলোড করা বা নির্দিষ্ট আয়ের তথ্য কোথায় দিতে হবে, সেই সংক্রান্ত জটিল প্রশ্নের তাৎক্ষণিক সমাধান মিলবে এখানে।
প্রযুক্তিগত এই উত্তরণ করদাতাদের জন্য দীর্ঘ সময় সাশ্রয় করবে এবং অফিসে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেবে। ‘কর সাথী’র মাধ্যমে ভুল সংশোধন এবং সঠিক নথিপত্র আপলোড করার প্রক্রিয়াটি এখন অনেক বেশি স্বচ্ছ। ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ার লক্ষ্যে আয়কর বিভাগের এই সাহসী পদক্ষেপ করদাতাদের দায়বদ্ধতা পূরণে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক দ্রুত ও নিরাপদে তাদের কর জমা দিতে পারবেন।