ভরণপোষণ মানে বিলাসিতা নয় এটি শুধু জীবনধারণের মাধ্যম: রাজস্থান হাইকোর্ট

ভরণপোষণ মানে বিলাসিতা নয় এটি শুধু জীবনধারণের মাধ্যম: রাজস্থান হাইকোর্ট

বৈবাহিক বিবাদের এক মামলায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল রাজস্থান হাইকোর্ট। আদালতের মতে, বিবাহবিচ্ছেদের পর ভরণপোষণ বা খোরপোশ হলো বিচ্ছেদ হওয়া সঙ্গীর জীবনধারণের একটি অবলম্বন মাত্র, একে সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যম বা ধনী হওয়ার উপায় হিসেবে দেখা উচিত নয়। এই প্রেক্ষিতে একটি পুরনো মামলার শুনানিতে খোরপোশের পরিমাণ ২৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ লক্ষ টাকা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি অরুণ মোঙ্গা এবং বিচারপতি যোগেন্দ্র কুমার পুরোহিতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সম্প্রতি পারিবারিক আদালতের দেওয়া ২৫ লক্ষ টাকার খোরপোশের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক আপিলের শুনানি করে। স্ত্রী এই অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন, অন্যদিকে স্বামী দাবি করেছিলেন যে পারিবারিক আদালতের ধার্য করা অঙ্ক অত্যন্ত বেশি। উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর আদালত এই ভারসাম্যপূর্ণ রায় দেয়।

হিন্দু বিবাহ আইনের ২৫ নম্বর ধারার (স্থায়ী ভরণপোষণ) পরিধি ব্যাখ্যা করে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, খোরপোশ মানে শুধু টিকে থাকা নয়, বরং সম্মানজনক জীবনযাপন এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। মামলার রায়ে বলা হয়েছে, দম্পতির আয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, বিয়ের সময়ের জীবনযাত্রার মান এবং বিচ্ছেদের কারণ বিবেচনা করেই এই অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্ত্রীর দাবি করা ২ কোটি টাকার খোরপোশ আদালত খারিজ করে দেয়।

আদালত লক্ষ্য করেছে যে, বিবাদী স্বামী একজন সরকারি চিকিৎসক। তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ২ লক্ষ টাকা এবং বসতবাড়ি ও কৃষি জমির মতো সম্পত্তি রয়েছে। তাই ৪০ লক্ষ টাকা খোরপোশ দেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য তাঁর রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং ততক্ষণ পর্যন্ত মাসিক ভরণপোষণ চালিয়ে যেতে হবে। হাইকোর্ট আরও জানিয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর ওই নারী একাই সন্তানদের বড় করেছেন, তাই মুদ্রাস্ফীতির বাজারে ২৫ লক্ষ টাকা যথেষ্ট নয়।

১৯৯৪ সালে এই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল এবং ২০০৯ সাল থেকে তাঁরা আলাদা থাকছেন। স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত (এলএলবি ও পিএইচডি) হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপার্জনের ক্ষমতা কমেছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সন্তানরা প্রাপ্তবয়স্ক হলেও স্ত্রীর খোরপোশ পাওয়ার স্বাধীন অধিকার ক্ষুণ্ন হয় না। সব দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত মানবিক ও বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আদালত খোরপোশের অঙ্ক বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *