নোয়াপাড়ায় গুন্ডারাজ খতমের ডাক দিয়ে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী তৃনাঙ্কুর ভট্টাচার্য

উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। আসন্ন নির্বাচনে এই কেন্দ্রে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রার্থী করা হয়েছে রাজ্যের ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃনাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে। অন্যদিকে, বিজেপির টিকিটে লড়ছেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ হেভিওয়েট নেতা অর্জুন সিং। দুই শিবিরের এই লড়াইকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতি।
বৃহস্পতিবার নোয়াপাড়ার মানিকতলা এলাকায় নিজস্ব নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেন তৃনাঙ্কুর ভট্টাচার্য। এই কর্মসূচিতে তৃণমূলের ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ, গারুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান রমেন দাস এবং নির্বাচনী এজেন্ট প্রদীপ বসুসহ একাধিক শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব। দলীয় কর্মীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তৃনাঙ্কুর। তিনি স্পষ্ট জানান, নোয়াপাড়ার সাধারণ মানুষ শান্তিকামী। তারা উন্নয়ন, শিক্ষা এবং উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা চান, কোনোভাবেই এলাকায় ‘গুন্ডারাজ’ বরদাস্ত করবেন না। অতীতে এই অঞ্চলে যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, তার অবসান ঘটাতে এবার মানুষ বদ্ধপরিকর বলে তিনি দাবি করেন।
তৃনাঙ্কুর ভট্টাচার্যের মতে, এবারের নির্বাচন আসলে শান্তি বনাম সন্ত্রাসের লড়াই। তিনি বলেন, “আমরা এই এলাকা থেকে গুন্ডারাজ চিরতরে নির্মূল করতে চাই।” প্রচারের শুরুতেই তিনি প্রয়াত শিক্ষক নেতা শহীদ বিকাশ বসুর আদর্শের কথা স্মরণ করেন। বিকাশ বসুর দেখানো পথেই নোয়াপাড়ায় শান্তি ও প্রগতি ফিরিয়ে আনা তাঁদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তৃণমূলের এই তরুণ প্রার্থী।
বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, জয়ী হলে আগামী পাঁচ বছর তিনি এলাকার মানুষের জন্য ‘ঘরের ছেলে’ হয়ে কাজ করবেন। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখাই হবে তাঁর মূল অগ্রাধিকার। হেভিওয়েট লড়াইয়ের আবহে নোয়াপাড়ার এই রাজনৈতিক সংঘাত এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।