রাজ্য পেনশনভোগীদের জন্য নবান্নের বড় ঘোষণা, ১৮০ দিনের মধ্যে মিলবে বকেয়া ডিএ

রাজ্য পেনশনভোগীদের জন্য নবান্নের বড় ঘোষণা, ১৮০ দিনের মধ্যে মিলবে বকেয়া ডিএ

নতুন অর্থবর্ষের প্রথম দিনেই রাজ্যের পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর শোনাল নবান্ন। বুধবার, পয়লা এপ্রিল মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য অর্থ দপ্তর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আগামী ১৮০ দিন বা ছয় মাসের মধ্যেই পেনশনভোগীরা তাঁদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার টাকা হাতে পাবেন। নবান্নের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের কয়েক লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও তাঁদের পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, মূলত ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের বকেয়া ডিএ-র হিসেব নিকেশ মিটিয়ে দ্রুত অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই সুবিধা সাধারণ পেনশনভোগীদের পাশাপাশি পারিবারিক পেনশনের (ফ্যামিলি পেনশন) আওতাভুক্ত ব্যক্তিরাও পাবেন। ইতিমধে্য়ই বিভিন্ন দপ্তরে ডিএ এবং ডিআর প্রাপকদের সঠিক তালিকা তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। ফ্যামিলি পেনশনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি বিভাগ বা ব্যাঙ্ক সরাসরি প্রাপকের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে। একই পদ্ধতিতে এরিয়ারের টাকাও প্রদান করা হবে। মঙ্গলবার ৩১ মার্চের মধ্যে সরকারি কর্মীদের একাংশের বিগত চার বছরের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরই পেনশনভোগীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন।

তবে নবান্নের এই তৎপরতার মাঝেই অসন্তোষ দানা বাঁধছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার পর কিছু কর্মীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করলেও, তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারী কর্মীদের দাবি, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশও এখনও পৌঁছায়নি তাঁদের হাতে। এই বঞ্চনার অভিযোগে ফের সরব হয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা।

বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আগামী ১২ এপ্রিল ফের বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। নির্বাচনের প্রাক্কালে কালীঘাট অভিযানের মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখতে চাইছেন তাঁরা। একদিকে নবান্নের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বকেয়া মেটানোর আশ্বাস, অন্যদিকে কর্মীদের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে ডিএ ইস্যু বর্তমানে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *