ট্রাম্পের শর্তে কি নরম ইরান? মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে শান্তি ফেরাতে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের আলোচনার গুঞ্জন তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাব মেনে বিতর্কিত হরমুজ প্রণালী মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে তেহরান। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সূত্রের খবর, যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। এমনকি গত বুধবার ট্রাম্প এই বিষয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা ছিল, আলোচনা তখনই সম্ভব যখন ইরান হরমুজ প্রণালী থেকে সমস্ত বাধা সরিয়ে নেবে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়েছিলেন, তেহরান শর্ত না মানলে তাদের ওপর জোরালো আঘাত হানা হবে। মূলত ইরান যাতে পুনরায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, তার জন্য কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের করা দাবিগুলো ইরান সরাসরি স্বীকার করেনি। ইরানের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে এখনও সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। তবে তারা স্বীকার করেছে যে, পাকিস্তানসহ বেশ কিছু দেশের মাধ্যমে ওয়াশিংটন আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তেহরান বর্তমানে এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলের নজর হরমুজ প্রণালীর দিকে। যদি সত্যিই ইরান এই জলপথ মুক্ত করে দেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হবে। তবে তেহরান শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের শর্তে পুরোপুরি নতিস্বীকার করবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে।