মা যেন জানতে না পারেন, ৬ লাখের লোভে কিডনি বেচে এখন পুলিশের কাছে হাতজোর করছেন তরুণ

কানপুর কিডনি র্যাকেটের শিকার বিহারের বাসিন্দা এমবিএ ছাত্র আয়ুশ এখন লখনউয়ের রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আশঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থার চেয়েও আয়ুশকে বেশি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে লোকলজ্জা ও পরিবারের দুশ্চিন্তা। পুলিশের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে আয়ুশ বারবার অনুরোধ করছেন, তার এই কিডনি বিক্রির খবর যেন কোনোভাবেই তার মা জানতে না পারেন। নিজের হাতে ‘আই লাভ মা’ লেখা ট্যাটু দেখিয়ে তিনি জানান, মা এই খবর সহ্য করতে পারবেন না।
দেরাদুন থেকে আসা প্রেমিকার কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন আয়ুশ। তিনি জানান, নিজের পড়ার ফি জোগাড় করা এবং বোনের বিয়ের খরচের চিন্তায় তিনি দিশেহারা ছিলেন। সেই সুযোগ নিয়ে শিবম নামের এক ব্যক্তি তাকে কিডনি বিক্রির প্রলোভন দেখায়। পরিবারের কাউকে না জানিয়েই তিনি কানপুরে চলে আসেন। কিন্তু নিজের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হারানোর পরও র্যাকেটের প্রতারক চক্রের থেকে তিনি কোনো টাকা পাননি।
বর্তমানে কানপুর পুলিশ এই কিডনি পাচার চক্রের শিকড় খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তিনটি হাসপাতাল সিল করে দেওয়া হয়েছে। আয়ুশের প্রেমিকা জানান, বাড়িতে মা অত্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন এবং বারবার আয়ুশের কাছে আসতে চাইছেন। জীবনের বড় ভুল করে ফেলা এই তরুণ এখন অপরাধবোধে দগ্ধ হচ্ছেন। অভাবের তাড়নায় প্রতারণার জালে জড়িয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করে ফেলায় চিকিৎসকদের সামনেও বারবার ডুকরে কেঁদে উঠছেন তিনি।