এআই কেড়ে নিল ১ কোটির চাকরি, অবসাদে শেষ বেঙ্গালুরুর দম্পতি

এআই কেড়ে নিল ১ কোটির চাকরি, অবসাদে শেষ বেঙ্গালুরুর দম্পতি

বেঙ্গালুরুর শান্ত আবাসন কোঠানুর এলাকা এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হল। ৩০শে মার্চ সকালে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ভানু চন্দর রেড্ডি নিজের ফ্ল্যাটে আত্মঘাতী হন। স্বামীর নিথর দেহ দেখার কিছু পরেই আবাসনের ১৭ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারান তাঁর স্ত্রী শারিয়া। নয় বছরের দাম্পত্যের এই করুণ পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ভানু আমেরিকায় বার্ষিক প্রায় এক কোটি টাকার প্যাকেজে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপটে সংস্থা কর্মী ছাঁটাই শুরু করলে তিনি চাকরি হারান। ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন নীতি ও কর্মসংস্থানের অভাব পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। দীর্ঘ এক বছর ধরে আমেরিকা ও কানাডায় লড়াই করেও স্থায়ী কাজের সুযোগ না পেয়ে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে দেশে ফেরেন তিনি।

পেশাগত অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন ভানু। শৈশবের প্রেম থেকে বিয়ে করলেও ভানুর পরিবার ভিন্ন ধর্মের শারিয়াকে মেনে নেয়নি। মা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, শারিয়াও তাঁর প্রভাবশালী বাবার কাছে বিয়ের কথা গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই দ্বৈত জীবন ও পারিবারিক দূরত্ব তাঁদের জীবনকে বিষাদগ্রস্ত করে তুলেছিল।

ঘটনার দিন সকালে স্বামীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়া শারিয়া তাঁর মাকে মেসেজে ক্ষমা চেয়ে সব সত্যি জানানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সাড়া না মেলায় তিনি চরম পথ বেছে নেন। পুলিশ উদ্ধার করা সুইসাইড নোটে ভানুর আক্ষেপ খুঁজে পেয়েছে, যেখানে তিনি স্ত্রীর প্রতি সুবিচার করতে না পারা এবং নিজের পরিচয় গর্বের সাথে তুলে ধরতে না পারার কথা লিখে গিয়েছেন।

নিছক একটি দুর্ঘটনা নয়, এই ঘটনা কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং আধুনিক জীবনের গভীর একাকীত্বের দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে। শেষ যাত্রায় দুই পরিবার বিবাদ ভুলে একই অ্যাম্বুলেন্সে তাঁদের বিদায় জানায়। বেঁচে থাকতে সামাজিক ও পারিবারিক স্বীকৃতি না পেলেও মৃত্যুর পর তাঁদের একসাথেই শেষ বিদায় দেওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *