পরিবার ছেড়ে কানাডা ফিরছে পাঁচ বছরের শিশু, গুরুত্বপূর্ণ রায় কলকাতা হাইকোর্টের

দাম্পত্য বিবাদের জেরে কলকাতা ও কানাডার আইনি টানাপোড়েনে ইতি টানল কলকাতা হাই কোর্ট। অশান্তির জেরে মায়ের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসা পাঁচ বছরের শিশুটিকে শেষ পর্যন্ত তার জন্মভূমি কানাডাতেই ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওই ব্যক্তিকে কলকাতায় এসে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে যেতে হবে।
দীর্ঘদিন কর্মসূত্রে কানাডায় কর্মরত ওই ব্যক্তির স্ত্রী কলকাতার ঠাকুরপুকুর এলাকার বাসিন্দা। বিদেশের মাটিতেই দম্পতির কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তবে সম্প্রতি দাম্পত্য কলহ চরমে উঠলে কানাডার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই শিশুটিকে নিয়ে কলকাতায় চলে আসেন ওই মহিলা। এরপর নিজের সন্তানকে ফিরে পেতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন বাবা। গত ডিসেম্বরে দায়ের হওয়া সেই মামলার শুনানিতেই এদিন চূড়ান্ত নির্দেশ দিল আদালত।
আগের শুনানিতে হাই কোর্ট প্রশ্ন তুলেছিল, কেন বিদেশের আদালতের নির্দেশ অমান্য করে শিশুটিকে নিয়ে আসা হল। একই সঙ্গে মামলার প্রক্রিয়া চলাকালীন বাবার সঙ্গে শিশুর নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয় যে, শিশুর ভবিষ্যৎ এবং আইনি অধিকার রক্ষায় তাকে কানাডায় পাঠানোই যুক্তিযুক্ত।
মামলা চলাকালীন বাবার আইনজীবী অভিযোগ করেছিলেন, ওই মহিলা শিশুটিকে ঢাল করে স্বামীর সম্পত্তি হাতানোর চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি স্বামীর সাথে ক্রমাগত দুর্ব্যবহারের বিষয়টিও আদালতের সামনে আনা হয়। আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে এবং শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়ে আপাতত স্বস্তিতে শিশুটির বাবা। আদালতের নির্দেশ পালনের জন্য নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। যদিও দম্পতির সম্পর্কের তিক্ততা মেটেনি, তবুও আদালতের হস্তক্ষেপে আপাতত একটি দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটল। এর ফলে শিশুটির শিক্ষাজীবন এবং সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার পথ প্রশস্ত হলো।