ভোট বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির ষড়যন্ত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সাগরদিঘির নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, ভারতীয় জনতা পার্টি রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির গভীর চক্রান্ত লিপ্ত হয়েছে। মালদহে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের পণবন্দি করার ঘটনাকে তিনি গেরুয়া শিবিরের এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, প্রশাসন বর্তমানে তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজি-সহ শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন এখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছে। তাঁর মতে, রাজ্যে বর্তমানে রাজ্যপাল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতায় একটি ‘সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন’ চলছে, যার মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দেওয়া।
মালদহের সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেখানে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনো সরকারি তথ্য ছিল না। বর্তমান মুখ্যসচিব তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি এবং তিনি এক সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে উসকে দিয়ে বিজেপি অশান্তি তৈরি করছে। মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলা দখলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে মালদহে সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে গ্রামবাসীদের পণবন্দি করার ঘটনাটি দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের জেরে সৃষ্ট এই বিশৃঙ্খলাকে ‘বিচারব্যবস্থায় বাধা দেওয়ার নির্লজ্জ চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
শীর্ষ আদালত রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশ মহাপরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে। আধিকারিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী শুনানিতে অভিযুক্ত আধিকারিকদের ভার্চুয়ালি হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।