গভীর ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস! মালদায় বিচারক ঘেরাও কাণ্ডে গ্রেফতার আইএসএফ প্রার্থী

মালদহে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিচারকদের দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এবার মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী মাওলানা শাহজাহান আলীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাঁর সঙ্গে আরও ১৭ জনকেও আটক করা হয়েছে। যদিও এই গ্রেফতারিকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী।
ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে, মালদা জেলায় বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকেই কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কয়েকশো মানুষ। পরিস্থিতির অবনতি হলে অফিসের ভেতরেই আটকে পড়েন সাতজন বিচারক, যাদের মধ্যে মহিলা বিচারকরাও ছিলেন।
টানা ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকার পর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের হস্তক্ষেপে পুলিশ ওই বিচারকদের উদ্ধার করে। এই ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে চিঠি পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে জরুরি শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া মনোভাবের পরই নড়চড়ে বসে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিচারকদের অবরুদ্ধ করে রাখার দায়ে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া আইএসএফ প্রার্থী মাওলানা শাহজাহান আলীর অভিযোগ, তিনি ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, বরং একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ছিলেন। শুধুমাত্র দলের হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণেই তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
শীর্ষ আদালত আগামী সোমবারের মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ মহানির্দেশককে ভার্চুয়াল হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আদালতের এই কড়া পদক্ষেপের পর মালদা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বর্তমানে ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।